দায়িত্ব পালনে ট্রেনে উঠলেন টিটিই শফিকুল

পাবনা: রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণকারী তিনজনকে জরিমানা করে বরখাস্ত হওয়া সেই ট্রেনের ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) শফিকুল ইসলাম বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের পর দায়িত্ব পালনে ট্রেনে উঠেছেন।

মঙ্গলবার (১০ মে) বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন হয়ে চিলাহাটিগামী আন্তঃনগর রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে কাজ শুরু করেন তিনি।

৭২৭ আপ রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনে পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন মো. আল-আমিন শেখ।

আজ বেলা ১১টায় ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনের টিটিই হেডকোয়ার্টারের নিজ কার্যালয়ে উপস্থিত হন তিনি। পরে স্টেশনমাস্টার তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিলে তিনি পালন শুরু করেন। গত রোববার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হলেও দুদিন চেকিংয়ের দায়িত্ব পাননি।‌

অনুভূতি প্রকাশ করে শফিকুল বলেন, রেলমন্ত্রী মহোদয় স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞ যে আমার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে তিনি প্রথম অবদান রেখেছেন। আমি দায়িত্ব পালনের শুরুতেই রেলমন্ত্রী স্যার ও আমাদের ডিআরএম স্যারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আমি সাংবাদিক ভাইদের প্রতিও চিরকৃতজ্ঞ।

রোববার (৮ মে) দুপুরে দেশব্যাপী আলোচিত-সমালোচিত এ ঘটনায় তদন্ত কমিটির কার্যক্রমের শুরুতেই টিটিই শফিকুল ইসলামের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এদিন নিজ ক্ষমতাবলে টিটিইর বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাকে স্বপদে বহাল করেন পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক শাহিদুল ইসলাম।

রেলমন্ত্রীর ‘আত্মীয় পরিচয়’ দিয়ে বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ করায় গত ৪ মে রাতে ঈশ্বরদী থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ‘সুন্দরবন এক্সপ্রেস’ এর তিন যাত্রীকে জরিমানা করেছিলেন টিটিই শফিকুল। কিন্তু রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে পরদিন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে রেল কর্তৃপক্ষ।

বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় সমালোচনা। টিআইবি এবং যাত্রী কল্যাণ সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ওই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে শফিকুলকে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন শনিবার সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বিনা টিকেটে ট্রেনে ভ্রমণ করা তিন যাত্রীর সঙ্গে তার ‘কোনো সম্পর্ক নেই’। তার ‘নাম ভাঙিয়ে’ কেউ হয়তো সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছে। যাত্রীদের সঙ্গে ‘খারাপ আচরণ করায়’ শফিকুলকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে তিনি কর্মকর্তাদের কাছে শুনেছেন।

কিন্তু বিনা টিকেটেরে ওই যাত্রীরা যে রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় সে বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। এরপর রোববার ফের সংবাদ সম্মেলনে এসে রেলমন্ত্রী বলেন, টিকিট ছাড়া ভ্রমণ করা যাত্রীরা যে তার আত্মীয়, তা তিনি জানতেন না।

মন্ত্রী জানান, টিটিই শফিকুল ইসলামের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি তড়িঘড়ি বরখাস্তের আদেশ দেওয়ায় রেলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (পাকশীর ডিসিও) নাসির উদ্দিনকে নোটিস দিয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

টিটিই শফিকুল ইসলাম সেদিন তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছেন মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, “টিটিইর কাজ হল রেলে শৃঙ্খলা আনা। তার কাজই তো রেলে যাত্রীদের সহযোগিতা করা, তাকে সাহায্য করা, সঠিক জায়গায় সেবা দেওয়া।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *