ফেরদৌস আহমেদ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে একটি নাম, যার সঙ্গে হঠাৎ এবং বৃষ্টি দুটোই সম্পৃক্ত। কারণ ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ সিনেমার শিরোনামের মতোই রোমান্টিক সিনেমার জগতে ফেরদৌস হয়ে ওঠেন হঠাৎ এক আলোর বিচ্ছুরণ। এখনও রোমান্টিক ঘরানার ছবিতে ফেরদৌসের নাম আসবেই।
বড় পর্দার পাশাপাশি মঞ্চেও সফল উপস্থাপক হিসেবে সরব নায়ক ফেরদৌস। কিছুদিন আগে দেখা গেছে একটি কৃষি-বিষয়ক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দায়িত্বে। পূর্নিমাসহ। তবে এই কাজ তার অন্তরের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে মনে করেন তিনি।
ফেরদৌস বলেন, “আমার দাদা ছিলেন কৃষক। আমার রক্তে আছে কৃষিকাজ। এ কারণেই এই উপস্থাপনার দ্বায়িত্ব পেয়ে আমি দারুণ খুশি।”
হেসে হেসেই ফেরদৌস বলেন, “অনেকেই জানেন না, আমি কিন্তু এখনও কৃষক। আমাদের বাড়ির ছাদে এমন একটা বাগান আছে, যেখানে রোজ কিছু না কিছু উৎপাদিত হয়। আমার মায়ের ঔষধির ভাণ্ডার তো আছেই, এছাড়াও আছে অন্য সবজি।”
শুধু ছাদ নয়, ঢাকার অদূরে নিজের এক টুকরো জমিতে নিয়মিত চাষ করেন ফেরদৌস। বাসায় আসে টাটকা সবজি। তাতে তার আনন্দের সীমা নেই।
নায়ক জানান, “বড় পর্দার পর যে কাজে নিয়মিত হব, তা হলো চাষাবাদ। কারণ এটাই আমাদের মূল ভিত্তি। যে মাটিতে বীজ ফেললেই সোনা হয়, সেই মাটির কাছে ফিরতে হবেই।”
বর্তমানে অনেক তরুণ কৃষিকাজ, খামার ব্যবসাতে ফিরছেন দেখে আরও উৎসাহী হয়ে উঠেছেন বড়পর্দার এই নায়ক। ‘চাষা’ বলে গালি দেওয়ার যে ভুল একটা ব্যাপার ছিল সেটাও অচীরে কেটে যাবে বলে তিনি মনে করেন।
ফেরদৌস মনে করেন, প্রতিটা মানুষই নিজের অঙ্গনে নিজের অবস্থানে নায়ক। শুধু তাকে ওই নায়কোচিত বিষয়টা প্রকাশ করতে হবে। আর যে নায়ক সে তো দেশের জন্যও নায়ক।
কৃষিব্যবসা নিয়ে ভীষণ আশাবাদী ফেরদৌস মনে করেন, এখন সুবর্ণ সময় চলছে নিজের দেশের মানুষের দেশের জন্য কাজ করার।
আর যেহেতু নিজেকে কখনও নায়ক ছাড়া অন্য কোনও চরিত্রে ভাবতেই পারেননি ফেরদৌস, তাই পড় পর্দা কখনও ছাড়লে ফসলের ক্ষেতের নায়ক হবেন তিনি- এটা নিশ্চিত করে জানালেন এই অভিনেতা।
