টাঙ্গাইলে দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবি

মাসুদ রানা, বাসাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: পরিবারের সাথে ঈদ করতে ঢাকা থেকে নিজঘরে ফেরার পথে শিশুসহ দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটেছে।

রবিবার (০১ মে) দুপুর ১২দিকে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের নথখোলা ব্রীজ এলাকার ঝিনাই নদীতে এই দুঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৬ মাসের শিশুসহ তার মা আহত হয়েছেন।

বাসাইল উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন মাষ্টার রাকিবুল হাসান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানাযায়, গাজিপুরের বিভিন্ন গার্মেন্টসে কর্মরত প্রায় একহাজার গার্মেণ্টস কর্মী এবং তাদের স্বজনরা জেলার ভাওয়াল মির্জাপুর থেকে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আসার জন্য চারটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া করে। প্রতিটি নৌকায় দুই শতাধিক যাত্রি নিয়ে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ঝিনাই নদীর নথখোলা ব্রীজ এলাকায় পৌঁছায়। তিনটি নৌকা ব্রীজের নিচ দিয়ে ভালভাবে পার হলেও চতুর্থ নৌকাটি ব্রীজের টেষ্টপাইলের সাথে লেগে তলায় ছিদ্র হয়ে যায়। নৌকায় পানি উঠে ডুবে যাবার উপক্রম হলে যাত্রিদের হুড়োহুড়িতে ৬ মাস বয়সি এক শিশুসহ তার মা আহত হন। অল্প পানি থাকায় স্থানীয়দের সহায়তার এসময় যাত্রিরা সাঁতরে পাড়ে উঠেন।

‘সাদ গ্রুপে’ এর মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্টের কর্মরত নৌকার যাত্রী শাহজাদপুরের নূরুল্লাহ্ বলেন, আমাদের নৌকায় শিশুসহ প্রায় দুইশত যাত্রী ছিল। ব্রীজের পাশের টেষ্টপাইলের সাথে ধাক্কা লেগে আমাদের নৌকা ডুবে যায়। অনেক কষ্টে সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও মালামাল হারিয়ে যায়।

উদ্ধারকারী নৌকার মালিক নথখোলার কবির হাসান বলেন, ব্রীজের টেষ্টপাইলের সাথে নৌকাটির দুর্ঘটনা ঘটেছে। খবর শোনার পর দ্রুত এসে যাত্রিদের মধ্যে থাকা শিশু এবং মালামালগুলি উদ্ধার করি। এই পিলারে ইতিপূর্বেও তিনবার দুর্ঘটনা ঘটায় উপজেলা চেয়ারম্যানকে পিলারটি অপসারনের জন্য এলাকাবাসী অনুরোধ করেছেন।

বাসাইল উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন মাষ্টার রাকিবুল হাসান বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা দুর্ঘটনা কবলিতদের দ্রুত উদ্ধার করায় নিহতের কোন ঘটনা ঘটেনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর অনুরোধের পর আমি রোডস এ্যান্ড হাইওয়ের সাথে অপসারণের বিষয়ে কথা বলেছি। এ বিষয়ে আবারও তাদেরকে অনুরোধ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *