মুন্সীগঞ্জ: কারামুক্ত হয়েছেন মুন্সীগঞ্জের বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল। রবিবার (১০ এপ্রিল) বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি।
এর আগে দুপুর সোয়া ১টার দিকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোতাহারাত আক্তার ভূঁইয়া পাঁচ হাজার টাকা বেল বন্ডে তার জামিন মঞ্জুর করেন। জামিনের আদেশ কারাগারে পৌঁছানোর পরই মুক্তি পান হৃদয় মণ্ডল।
মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার আবুুল বাসার বলেন, ‘জামিনের কাগজপত্র হাতে পেয়ে বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।’
জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ রকম পরিস্থিতি যাতে রাষ্ট্রের আর কেউ না পড়ে।
নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের কাছে আমি নিরাপত্তা চাই। শুধু আমাকে না, সবাই যাতে নিরাপদে থাকে। পথেঘাটে আমার সঙ্গে যেন কোনো অসুবিধা না হয়।’
মুক্ত হৃদয় মণ্ডলকে বিনোদপুরের বাড়িতে নিতে এর আগেই সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাস নিয়ে কারাফটকে আসেন তার স্ত্রী, শ্যালক ও দুই সন্তান। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা শেষ করেই গাড়িতে চড়ে বসেন হৃদয় মণ্ডল। পুলিশের নিরাপত্তায় গাড়িটি ফটক এলাকা ছেড়ে যায়।
গত ২০ মার্চ দশম শ্রেণির একটি অনির্ধারিত ক্লাসে গিয়ে ছাত্রদের সঙ্গে বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করছিলেন হৃদয় মণ্ডল। সেখানে একজন ছাত্র বিজ্ঞানের সঙ্গে ধর্মের তুলনা করে কিছু প্রশ্ন করে। হৃদয় মণ্ডল সেগুলোর জবাব দেন।
ক্লাসের এক ছাত্র ওই আলোচনা মোবাইলে রেকর্ড করে এবং তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। দুদিন পর কিছু ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন মিলে হৃদয় মণ্ডলের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে যায়। স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
ওই রাতেই স্কুলের অফিস সহকারী আসাদ বাদী হয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলা করলে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলকে, যা নানামুখী আলোচনার জন্ম দেয়।
শিক্ষাবিদ, অধিকারকর্মী, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এর প্রতিবাদে সরব হয়।
২৮ মার্চ মুন্সীগঞ্জের বিচারিক হাকিম আদালতে জামিন আবেদন করেন হৃদয়, তা নাকচ করা হয়। এরপর সোমবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতও তার জামিন নাকচ করে।
