দ্বিতীয় বিয়ের প্রদিবাদ করায় প্রথম স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় দ্বিতীয় বিয়ের প্রতিবাদ করায় শরিফা আক্তার (৩৭) নামে প্রথম স্ত্রীকে কঠোর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী আশাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শরিফা আক্তার স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রবিবার (৩ এপ্রিল) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতীবান্ধা থানার ওসি এরশাদুল আলম। এর আগে গত ৩১ মার্চ রাতে উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের কালিডাঙ্গার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঐদিন রাতেই ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে চারজনকে আসামী করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন- স্বামী আশাদুল ইসলাম (৪০), তার ছোট ভাই রাশেদ ইসলাম (৩৪), মছির উদ্দিন (২৯), মোছা ছালেহা বেগম (৩০)।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর আগে ওই উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের কালিরডাঙ্গা এলাকার মৃত আফজাল হোসেনের ছেলে আশাদুলের সঙ্গে একই উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়নের সহির উদ্দিনের মেয়ে শরিফার বিয়ে হয়। বিয়ের পর সংসার চলাকালে এক ছেলে সন্তানের জন্ম দেন তারা। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পরই বিভিন্ন অযুহাতে দেখিয়ে গৃহবধূ শরিফার ওপর অমানবিক অত্যাচার করতে থাকেন স্বামী আশাদুল ও তার পরিবারের সদস্যরা। পরে গৃহবধূ শরিফা নির্যাতন সহ্য করতে না পেয়ে ঢাকায় গিয়ে গাজীপুরে বিজ্ঞ নোটারী পাবলিক এভিডেভিটের মাধ্যমে গত ১ মার্চ স্বামী আশাদুলকে তালাকের নোটিশ প্রদান করেন।

পরে ওই তালাকের নোটিশ পাওয়ার পর গৃহবধূ শরিফার কাছে ভুল স্বীকার করে তাকে ঢাকা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন আশাদুল। এদিকে গত ৩০ মার্চ প্রথম স্ত্রী শরিফা আক্তারকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে নববধূকে বাড়িতে আনে আশাদুল। দ্বিতীয় বিয়ের প্রতিবাদ করতে গেলে অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে ৩১ মার্চ রাত দুইটার দিকে ভুক্তভোগী শরিফা আক্তারকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে। এ সময় মা শরিফা ও ছেলে শাকিবুল ইসলামের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

ভুক্তভোগী শরিফা আক্তার বলেন, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উস্কানিতে আমার ওপর অত্যাচার চালাতো আশাদুল। আমি তাদের নির্যাতন সইতে না পেয়ে তাকে তালাক দেওয়ার সিধান্ত নেই। কিন্তু আমার ওপর আর অত্যাচার করবেনা এমন কথা বলে ঢাকা থেকে সে আমাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। বাড়িতে এনে আমার অনুমতি ছাড়াই সে দ্বিতীয় বিয়ে করলে তার প্রতিবাদ জানালে আমার ওপর হামলা চালিয়ে আহত করে আশাদুল ও পরিবারের লোকজন। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ বিষয়ে জানার জন্য অভিযুক্ত স্বামী আশাদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এরশাদুল আলম বলেন, অভিযোগের দেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে যদি অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *