ঢাকায় আজও আলেমদের বিক্ষোভ, ম্যাক্রোর কুশপুত্তলিকা দাহ

নজর২৪ ডেস্ক- ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলাম ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর অবমাননার প্রতিবাদে বাংলাদেশে আলেমদের প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েকদিনের রেশ ধরে বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকার কয়েকটি জায়গায় বিক্ষোভ করেন কওমি মাদ্রাসার আলেম-শিক্ষার্থীরা ও বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক সংগঠন। বায়তুল মোকাররম এলাকায় বিক্ষোভ শেষে ইসলামী ঐক্যজোট ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ম্যাক্রোর কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে।

 

ঢাকার মুহাম্মদপুরেও একই ইস্যুতে সমাবেশ ও মিছিল করে ইত্তেফাকুল মাদারিস। সমাবেশে বেফাকের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা আবু তালহা, মাওলানা জালালুদ্দিন, মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা ফয়সাল আহমদ প্রমুখ।

 

বুধবার দুপুরে জোহরের নামাজের পর বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সামনে বিক্ষোভ করেছে ইসলামী ঐক্যজোট। বিক্ষোভ শেষে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। বিক্ষোভে ফ্রান্সের সব ধরনের পণ্য রাষ্ট্রীয়ভাবে বর্জনের ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানান ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসনাত আমিনী।

 

বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন— ইসলামী ঐক্যজোটের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আবদুর রশীদ মজুমদার, যুগ্ম মহাসচিব ফজলুর রহমান, শেখ লোকমান হোসেন, আলতাফ হোসেন, একে এম আশরাফুল হক, প্রচার সম্পাদক আনসারুল হক ইমরান প্রমুখ।

 

মহানবী মুহাম্মদ (সা.) এর একটি কার্টুন দেখানো নিয়ে মুসলিম বিশ্ব ক্ষোভে ফেটে পড়ে ফ্রান্সের তীব্র সমালোচনায় মেতেছে। ফরাসি পণ্য বয়কটেরও ডাক উঠেছে।

 

ফ্রান্সে স্যামুয়েল প্যাটি নামের এক ইতিহাস শিক্ষক ক্লাসে বাকস্বাধীনতা বিষয়ে পাঠদানের সময় নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কার্টুন দেখান। যার জেরে গত ১৬ অক্টোবর চেচেন বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তি ছুরি হাতে ওই শিক্ষককে আক্রমণ করে এবং তার শিরশ্ছেদ করে। চেচনিয়া মুসলমান অধ্যুষিত দেশ।

 

এ ঘটনা ফ্রান্সে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে। অনেক ফরাসি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ ফরাসি মূল্যবোধ সুরক্ষিত রাখা এবং ইসলামি মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার করেন। ম্যাক্রোঁর এ বক্তব্য পছন্দ হয়নি তুরস্কের।

 

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ান ম্যাক্রোঁর ‘মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা দরকার’ বলে মন্তব্য করেন। যার ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়, ফ্রান্স তুরস্কে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে নেয়। যার জাবাবে এরদোয়ান তুর্কিদের ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক দেন।

 

এরদোয়ানের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও ম্যাক্রোঁ কঠোর সমালোচনা করে বলেন, নবী মুহাম্মদের (সা.) ব্যাঙ্গচিত্র প্রদর্শনকে উৎসাহিত করে ম্যাক্রোঁ ‘ইসলামকে আক্রমণ’ করছেন। ইরানও এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সৌদি আরব মুহাম্মদ (সা.) এর ব্যাঙ্গচিত্র আঁকা নিয়ে সমালোচনা করেছে। যদিও তারা ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক দেওয়ার পক্ষে নয়।

 

ওদিকে, মঙ্গলবার ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের অভ্যন্তরীন বিষয় নিয়ে তুরস্ক এবং পাকিস্তানের নাক গলানো উচিত না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *