ফ্রিল্যান্সিং করেই মাসে ২ লাখ টাকা আয় নিরবের

নওগাঁর ছেলে নিরব কুমার দাস। ছোটবেলা থেকেই কম্পিউটারে কাজ করার প্রতি বেশ মনোযোগ ছিল তার। সমাজের পরিস্থিতি ও চাকরির দুরবস্থা দেখে এসএসসি পাসের পর ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। এখন বড় বড় কয়েকটি অনলাইন প্রতিষ্ঠান ও মার্কেটপ্লেসগুলোতে গ্রাফিক্স ডিজাইনার ও ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে কাজ করছেন। মাসে প্রায় দুই লাখ টাকা আয় করছেন স্নাতক প্রথম বর্ষের এ শিক্ষার্থী।

নিজেও গড়ে তুলেছেন একটি প্রতিষ্ঠান। যার নাম দিয়েছেন দাস অনলাইন জোন অ্যান্ড ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং সেন্টার। যেখানে নতুন নতুন তরুণ ফ্রিল্যান্সার তৈরি করছেন তিনি।

নিরব কুমার দাসের জন্ম নওগাঁর রানীনগর উপজেলার একডালা ইউনিয়নের কালীগ্রাম ডাকাহার পাড়া গ্রামে। তার বাবা ডাক্তার নিখিল চন্দ্র দাস ও মা কল্যাণী রাণী দাস গৃহিণী।

তিনি ২০১৬ সালে আবাদপুকুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও ২০১৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। তিনি বর্তমানে নওগাঁ সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিরব ২০১৭ সালে একটি কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে মাইক্রোসফট অফিস অ্যাপ্লিকেশনের ক্লাস নিতেন। যেখানে থেকে তিনি কোনো বেতন পেতেন না। নিরব কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে কাজ করার পাশাপাশি গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্টের কাজ শিখেছিলেন। চাকরির দুর্দশা দেখে অনলাইনে ফ্রিল্যান্সারের কাজ শুরু করেন।

নিরব কুমার দাস এরই মধ্যে ২৭টি দেশের ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজ করছেন। এসব কাজের বিনিময়ে ঘরে বসেই উপার্জন করছেন বৈদেশিক মুদ্রা। নিরবের মাসে প্রায় ভালোই $ ডলার আয় করছেন। তার অধীনে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ফ্রিল্যান্সিং করছেন। তারাও এখন স্বাবলম্বী।

নিরব কুমার দাস বলেন, ইউটিউবে ভিডিও দেখে ও দিনাজপুরের কিছু বড় ভাইয়ের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে এসব কাজ শিখেছি। যারা সঠিক প্রশিক্ষণের অভাবে এসব কাজ শুরু করতে পারছেন না, তারা ইউটিউব ও গুগলের সাহায্য নিয়ে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারেন। তবে অবশ্যই তাকে অধ্যবসায়ী ও পরিশ্রমী হতে হবে। তাতে নিজেরা স্বাবলম্বী হতে পারবে এবং দেশের রেমিট্যান্স বাড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *