বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা

দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আরও উত্তর অথবা উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে সোমবার (২১ মার্চ) মধ্যরাতে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এক বিশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

এতে বলা হয়, গভীর নিম্নচাপটি সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ১১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ৪০ কিলোমিটর দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল। এটি উত্তর অথবা উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে মধ্যরাতে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

ভারতীয় আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছ দিয়ে এগিয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’ বুধবার (২৩ মার্চ) ভোরে মিয়ানমার উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

তবে বাংলাদেশ উপকূলে এর তেমন প্রভাব পড়ার শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান। উপকূল অতিক্রমের আগেও ঝড়টি দুর্বল হয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদ মাধ্যমকে আব্দুল মান্নান বলেন, বাংলাদেশ উপকূলে এর প্রভাব পড়ার শঙ্কা নেই। তবে এর প্রভাবে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

রাত ৯টায় তিনি বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়ার পূর্বাভাস ছিল। তবে এটি ঝড়ে রূপ নিতে আরও সময় নিচ্ছে। আজ মধ্য রাতে অথবা মঙ্গলবার সকালে এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এখনও এটি গভীর নিম্নচাপ অবস্থায় রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়ার পর এর নাম হবে অশনি (Asani)। শ্রীলঙ্কার দেয়া তালিকা থেকে নামটি নেয়া হয়েছে।

‘নিম্নচাপটি এটি ক্রমাগত উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মঙ্গলবার এই ঘূর্ণিঝড় মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন উপকূলে পৌঁছবে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকা কিছুটা ঝুঁকির মুখে রয়েছে।’

আব্দুল মান্নান বলেন, ‘১৮ মার্চ সকাল ৬টায় বঙ্গোপসাগরে একটা লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। পরদিন এটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়। আর ২০ মার্চ সকাল ৬টায় তা নিম্নচাপে রূপ নেয়। আর সোমবার সকাল ৬টায় এটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়।

নিম্নচাপের প্রভাবে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় বুধবার থেকে অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা সিলেট ও চট্টগ্রাম এলাকায় বৃষ্টি এবং বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।’

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *