সাম্প্রতিককালে এপ্রিলের আগে বঙ্গোপসাগরে কোনও ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়নি। কিন্তু এবার মধ্য মার্চে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কবার্তা জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্বে সৃষ্ট নিম্নচাপ দক্ষিণ আন্দামান সাগরের দিকে এগোচ্ছে।
শুক্রবার (১৮ মার্চ) ভারতের আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগরের উপর যে নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে, তা পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সকাল ৮ টা ৩০ মিনিট নাগাদ সেই নিম্নচাপ দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোসাগর এবং দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও পূর্ব নিরক্ষীয় ভারতীয় মহাসাগরের উপর অবস্থান করছিল। যা শনিবার সকালে ক্রমশ পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোসাগর এবং দক্ষিণ আন্দামান সাগরের উপর অবস্থান করতে পারে।
রবিবার (২০ মার্চ) সকালের মধ্যে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ বরাবর গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। পরদিন (সোমবার, ২১ মার্চ) তা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মৌসম ভবন। তারপর উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে মঙ্গলবার সকালের দিকে বাংলাদেশ এবং উত্তর মায়ানমারে কাছে পৌঁছাতে পারে।
বৃষ্টিপাত
১৯ মার্চ (শনিবার): আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের অধিকাংশ জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। কয়েকটি জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে।
২০ মার্চ (রবিবার): আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের অধিকাংশ জায়গাায় হালকা থেকে মাঝারি বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। কয়েকটি জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বিক্ষিপ্ত জায়গায় অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে।
২১ মার্চ (সোমবার): আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের অধিকাংশ জায়গাায় হালকা থেকে মাঝারি বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। বিক্ষিপ্তভাবে কয়েকটি জায়গায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে।
ঝড়ের গতিবেগ
সোমবার আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোসাগরে ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৭০-৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইতে পারে। কখনও কখনও ঘণ্টায় হাওয়ার বেগ ৯০ কিলোমিটার পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
ভারতীয় আবহাওয়া অধিদফতর (আইএমডি) জানায়, ২১ মার্চ নাগাদ এটির ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পরে তা উত্তর-উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হবে। যাবে মিয়ানমার এবং বাংলাদেশ উপকূলের দিকে। কোনওভাবেই এটির পশ্চিমবঙ্গ কিংবা ওড়িশা উপকূলের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। হয়তো মিয়ানমার কিংবা মিয়ানমার-বাংলাদেশ উপকূলের দিক হয়ে এগোবে ঘূর্ণিঝড়টি। ২২ মার্চ সকালের দিকে সেটি বাংলাদেশ এবং উত্তর মিয়ানমার উপকূলের কাছে গিয়ে পৌঁছবে বলে মনে করছেন ভারতের আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা।
