কক্সবাজার: করোনা সংক্রমণ কমে আসায় বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের শহর কক্সবাজারে ফের পর্যটকদের পদচারণা বেড়েছে। টানা তিন দিনের সরকারি ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে কক্সবাজার ঘুরতে এসেছেন পর্যটকরা।
শুক্রবার (১৮ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, সৈকত লোকে লোকারণ্য। আনন্দ উচ্ছ্বাসে করোনার স্বাস্থ্যবিধি মানার নিয়মও ভুলেছেন অনেকে। তবে উত্তাল সাগরে ঢেউয়ের সান্নিধ্য নিতে সতর্ক থাকার জন্য পর্যটকদের বার বার পরামর্শ দিচ্ছেন লাইফ গার্ড সদস্যরা। নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি পর্যটকদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে মাইকিং করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে গত দুই মাস কক্সবাজারে পর্যটক সমাগম কমে যায়। গত কয়েকদিন ধরে করোনা সংক্রমণ কমতে থাকায় সৈকতে ফের বেড়েছে পর্যটক। শুক্রবার দুপুর থেকে সাগরতীরে বেড়েছে পর্যটকদের পদচারণা।
ইতিমধ্যে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেলসহ গেস্ট হাউসের প্রায় সব কক্ষই বুকিং হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, অন্তত দুই লাখ পর্যটকের সমাগম হয়েছে। এতে আয় হবে আনুমানিক ৫০ কোটি টাকার বেশি।
ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নতুন তালিকা অনুযায়ী কক্সবাজারে হোটেল-মোটেলসহ গেস্ট হাউসের সংখ্যা ৫১৬টি। যেখানে অন্তত তিন লাখ পর্যটক থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এসব হোটেল-মোটেলের প্রায় সবকটি কক্ষই অগ্রিম বুকিং হয়ে যাওয়ায় খুশি ব্যবসায়ীরা।
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের সঙ্গে মাঠে রয়েছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ ছাড়া মোতায়েন করা হয়েছে সাদা পোশাকের পুলিশও।
সৈকতে পর্যটক আগমনে চাঙা হয় পর্যটন ব্যবসা। টানা তিন দিনের ছুটিতে বিপুলসংখ্যক পর্যটক ছুটে আসায় দারুণ খুশি সৈকতের ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে ওয়াটার বাইক, ফটোগ্রাফার, কিটকট ব্যবসায়ী ও হকাররা পার করছেন ব্যস্ত সময়।
হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ বলেন, ‘সকল গুজব বা নানা সমালোচনার মধ্যেও ভালো ব্যবসার আশা জেগেছে। দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা বা করোনার থাবা থেকে মুক্ত হয়ে বড় কোনো ব্যবসার আলো দেখছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। ৫১৬টি হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউসের প্রায় শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে পর্যটন নগরীতে আসতে শুরু করেছেন পর্যটক।’
পর্যটকদের নিরাপত্তায় জোরদারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি থাকবে আগত পর্যটকরা যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন না হন। পর্যটনশিল্প ধরে রাখতে হলে পর্যটকদের গুরুত্ব দিতে হবে। না হলে বিভিন্ন গুজব ও নিরাপত্তাজনিত কারণে ধস নামবে এ শিল্পে।’
রাজশাহী থেকে আসা সাইদুজ্জামান বলেন, ‘টানা ছুটিতে পরিবার নিয়ে কক্সবাজার ছুটে এসেছি। দুই দিন এখানে ঘুরেফিরে আবারও ঢাকায় ফিরব। টানা ছুটিতে পরিবারকে সময় দেয়াই মূল উদ্দেশ্য। এত লম্বা ছুটি তেমন মিলে না। তাই এবারের সুযোগটা পরিবারের সঙ্গে কাটাচ্ছি।’
আরেক পর্যটক ইব্রাহিম বলেন, ‘তীব্র গরম পড়ছে। তার মাঝেও কক্সবাজার সৈকতে ঘুরে বেশ মজা পাচ্ছি। কিছুক্ষণ নোনা জলে গোসল করছি, আবার বালিয়াড়িতে উঠে বালি নিয়ে খেলা করছি। ছুটিটা বেশ উপভোগ করছি কক্সবাজার এসে।’
ভিজ টা বে নামে একটি হোটেলের ব্যবস্থাপক আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘তিন দিনের ছুটিকে সামনে রেখে হোটেলের সব কক্ষই বুকিং হয়ে গেছে। এখনও অনেক ফোন আসছে বুকিংয়ের জন্য। কিন্তু আমরা বুকিং নিতে পারছি না। আশা করছি অনেক দিন পরে ভালো ব্যবসা হবে।’
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আনোয়ার কামাল বলেন, ‘১৭-১৯ তারিখের জন্য সব কক্ষই অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। সব খাতে মিলিয়ে ৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যবসার আশা করছি।’
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন বলেন, টানা তিন দিনের ছুটিতে কক্সবাজারে আবারো পর্যটক সমাগম বেড়েছে। সৈকত ও পর্যটন স্পটে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এরপরও কোথাও কেউ অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতির শিকার হলে পুলিশ বক্স, তথ্যকেন্দ্র বা ট্যুরিস্ট পুলিশ ভবনে এসে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করেন এই কর্মকর্তা।
