নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ভাদ্রা ইউনিয়নের টেংরিপাড়া এলাকায় স্টীল বেইলী সেতু মাসে একাধিক বার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ঢিলেঢালা সংস্কারের ফলে স্থায়ী সংস্কার হচ্ছে না।
এছাড়াও স্থানীয়দের অভিযোগ অতিরিক্ত ওজনের ভারী যানবাহন চলাচল ও সেতু মেরামত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের গাফলতিতে সেতুর টেকসই সংস্কার না হওয়ায় টাঙ্গাইল-আরিচা আঞ্চলিক এই মহাসড়কে যান চলাচল অস্বাভাবিক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং জনসাধারণের চলাচলে ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার (৮ মার্চ) ভারী যান সহ পাটাতন ভেঙে সেতু বিকল হলে দুই দিন যাবৎ সংস্কার করে মেরামত করা হলেও আজ রবিবার (১৩ মার্চ) সেতুর পাটাতন কয়েকদিনের ব্যবধানে পুনরায় ভেঙে যাওয়ায় সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
প্রতিদিন এই সেতু ব্যবহার করে চলাচলকারী রিফাত মিয়া বলেন, আমরা ব্যাপক কষ্টে চলাচল করছি। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে আবারো সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বার বার এটি মেরামত করে কিন্তু স্থায়ী সংস্কার হচ্ছে না। এছাড়াও অতিরিক্ত ওজনের ভারী যানবাহন চলাচল করায় সেতুটি আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর অফিস সূত্রে জানায়, সেতুটি অনেক পুরাতন এবং অতিরিক্ত ওজনের ভারী যান চলাচল করায় সেতুটি বার বার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি সেতুর টেকসই সংস্কারের। অতিরিক্ত ওজনের ভারী যান চলাচলের বিষয়টি সঠিক তদারকির জন্য নাগরপুর থানায় লিখিত দেয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ওজনের ভারী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হলে সেতুর সংস্কার টেকসই হবে।
উল্লেখ্য, আঞ্চলিক এই মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশের দৈর্ঘ্য ৪০ কি.মি. এবং মানিকগঞ্জ অংশের দৈর্ঘ্য ১৮.৫০ কি.মি.উন্নীতকরণ করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৩৫.১০ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতর। উক্ত প্রকল্পের মূল কার্যক্রমের আওতায় প্রথমত সড়কটি ১০ দশমিক ৩০ কিলোমিটারে উন্নীত করে পুণঃনির্মাণ করা হবে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু ও কালভার্টের পরিবর্তে নতুন করে ১৪ টি সেতু ও ২১ টি কালভার্ট নিমার্ণ করা হবে এবং ৭টি কালভার্ট সম্প্রসারণ করা হবে। এছাড়াও সড়কটিতে বিদ্যমান বাঁকসূমহ সমীকরণের মাধ্যমে সড়কের নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানো হবে।
