নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর: হাজী সেলিমের ছেলের বিরুদ্ধে মামলা

নজর২৪, ঢাকা- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে মোহাম্মদ এরফান সেলিমের বিরুদ্ধে নৌবাহিনী অফিসারকে মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগে মামলা হয়েছে।

 

ধানমন্ডি থানার অফিসার ইনচার্জ ইকরাম আলী মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আজ ভোরে মামলাটি এন্ট্রি করা হয়।

 

মামলার এজাহারে এরফান সেলিম, তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদ, হাজি সেলিমের মদীনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দিপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত ২-৩ জনকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

মারধরের শিকার নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তার নাম মো. ওয়াসিফ আহমেদ খান।

 

জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় বই কিনে স্ত্রীসহ মোটরবাইকে ফিরছিলেন লেফটেন্যান্ট ওয়াসিক। কলাবাগান ক্রসিংয়ের কাছে সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের স্টিকার লাগানো একটি গাড়ি তার মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এ সময় মোটরসাইকেল থামিয়ে নিজের পরিচয় দেন ওয়াসিক। গাড়ি (নম্বর ঢাকা মেট্টো– ঘ ১১-৫৭৩৬) থেকে নেমে দুই ব্যক্তি তাকে মারধর শুরু করেন। এ সময় তার স্ত্রীর গায়েও হাত তোলা হয় বলে অভিযোগ ওয়াসিকের।

 

এদিকে, ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হলে গাড়িটি ফেলে এর নম্বর প্লেট ভেঙে চলে যান হাজী সেলিমের ছেলে ও তার বডিগার্ডরা। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানিয়েছে, মারধর করা ব্যক্তি হাজী সেলিমের ছেলে ও তার বডিগার্ড। তবে হাজী সেলিমের তিন ছেলের মধ্যে কোন ছেলে এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

 

এদিকে ঘটনার সময় মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও ধারণ করেছে এক প্রত্যক্ষদর্শী। এরই মধ্যে ভিডিওটি সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, আহত নৌবাহিনীর কর্মকর্তা নিজেকে লেফটেন্যান্ট ওয়াসিক বলে পরিচয় দিয়ে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিচ্ছেন। লেফটেন্যান্ট ওয়াসিক ঢাকায় বিএনএস হাজী মহসীন নৌবাহিনীঘাঁটিতে কর্মরত।

 

এ ব্যাপারে ধানমন্ডি থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আবদুল্লাহ জাহিদ জানান, সাংসদ হাজী সেলিমের জিপ গাড়ির সঙ্গে নৌবাহিনীর কর্মকর্তার মোটরসাইকেল সামান্য ঘষা লাগায় প্রথমে কথা কাটাকাটি, এরপর হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে মোটরসাইকেল ও গাড়িটি জব্দ করে ধানমন্ডি থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *