আন্তর্জাতিক ডেস্ক- মোহাম্মদ (সা.) ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশ ও ইসলামকে নিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্টের এমানুয়েল ম্যাখোঁর বিদ্রূপাত্মক মন্তব্যের জেরে মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে দেশটির পণ্য বয়কটের ডাক উঠেছে।
পণ্য বর্জন না করতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘উগ্র সংখ্যালঘুদের’ পক্ষ থেকে এই বয়কটের ‘ভিত্তিহীন’ ডাক দেওয়া হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, কুয়েত, জর্ডান এবং কাতারের কিছু কিছু দোকান থেকে ফরাসি পণ্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া লিবিয়া, সিরিয়া এবং গাজা উপত্যকায় বিক্ষোভ হয়েছে।
বিষয়টি উল্লেখ করে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘উগ্র সংখ্যালঘুদের ইন্ধনে পণ্য বয়কটের এই আহ্বান ভিত্তিহীন এবং এখনই তা বন্ধ করা উচিত, সেই সঙ্গে আমাদের দেশের বিরুদ্ধে সব ধরনের আক্রমণও।’
এর আগে মোহাম্মদ (সা,) এর ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন চাপানোর সাফাই গেয়ে ম্যাখোঁ বলেন, ‘আমরা কখনোই এটা (মূল্যবোধ) বিসর্জন দেবো না।’
চলতি মাসের শুরুর দিকে তিনি ফ্রান্সে ‘মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদীদের’ রুখতে কঠোর আইন তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি ইসলামকে ‘সংকটে থাকা ধর্ম’ উল্লেখ করে বলেন, ফ্রান্সের প্রায় ৬০ লাখ মুসলিম ‘কাউন্টার সোসাইটি’ তৈরির চিন্তা করছে।
এদিকে তুরস্ক এবং পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতারা ম্যাঁক্রোর প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে অভিযোগ তুলেছেন যে, তিনি ‘বিশ্বাসের স্বাধীনতা’ কে কদর করছেন না এবং ফ্রান্সের লাখ লাখ মুসলিমদের কোণঠাসা করছেন।
উল্লেখ্য, মহানবী (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের জেরে এক মুসলিম উগ্রবাদী কর্তৃক একজন ইতিহাস শিক্ষককে হত্যার পর থেকেই উত্তপ্ত ফ্রান্স। ওই ঘটনার পর অন্তত ৫০টি মসজিদ ও মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকায় ভয়াবহ অভিযান চালায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। মহানবী (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তার এ ঘোষণায় মুসলিম বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। ইসলামের প্রতি এমন মানসিকতার জন্য ম্যাক্রোঁর মানসিক চিকিৎসা দরকার বলে মন্তব্য করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। মুসলিম দেশগুলোতে ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক দেওয়া হয়।
বিভিন্ন দেশে জনগণকে ফরাসি পণ্য চিহ্নিত করার উপায় বাতলে দিচ্ছেন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টরা। বর্জনের ডাকে সাড়া দিয়ে ইতোমধ্যেই কাতার ও কুয়েতের বিভিন্ন মার্কেটের সেলফ থেকে ফরাসি পণ্য সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ফরাসি পণ্য বর্জনের দাবিতে টুইটার হ্যাশট্যাগ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সৌদি আরবসহ এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও। এমন পরিস্থিতিতে রবিবার আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে ফরাসি পণ্য বর্জন বন্ধের আহ্বান জানালো ফ্রান্স।
