আর কত বয়স হলে বয়স্কভাতা পাবেন হালিমন?

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি- হালিমন বেওয়া, বয়স ৮৫। স্বামী মারা গেছে বহু আগেই। অভাবের সংসারে পাঁচ ছেলে-মেয়ের জননী হয়েও তিন বেলা খাবার জুটছে না তার। শেষ বয়সে একটা বয়স্ক ভাতার কার্ড না পাওয়ার আক্ষেপ রয়েছে হালিমনের।

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের জগৎপুরা গ্রামের মৃত সাহেব আলী মোল্লার স্ত্রী হালিমন। সাহেব আলী-হালিমন দম্পতির চার ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলেরা বিয়ে করে আলাদা সংসার করছে। মেয়েরও বিয়ে হয়েছে।

জানা গেছে, বৃদ্ধ হালিমনের জায়গা-জমি ঘর-বাড়ি সবই ছিল। প্রমত্তা যমুনার ভাঙনে হারিয়ে গেছে স্বামীর বসতভিটা ও ফসলি জমি। ফলে নিঃস্ব হালিমনকে শেষ বয়সে এসে অন্যের সহায়তায় চলতে হচ্ছে। শরীর আর আগের মতো চলে না। তাইতো খাবার জোটাতে বাড়ির পাশে যমুনায় জেগে উঠা চরে গিয়ে শাক ও লাকড়ি সংগ্রহ করেন।

স্থানীয়রা জানান, হালিমনের ছেলেরা থাকতেও নেই। চার ছেলের কেউ তার ভরণ-পোষণ দেয় না। মানুষের সাহায্য-সহযোগিতায় চলে তার জীবন। খুবই কষ্টে জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। সরকারিভাবে একটা বয়স্ক ভাতার কার্ড পেলে তার বাকি জীবন চলে যেত।

হালিমন বেওয়া বলেন, নদীর ভাঙনে সব হারিয়ে গেছে। স্বামী মারা গেছে বহু আগেই। ছেলেরা বিয়ে করে আলাদা সংসার করছে। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করি। বয়স হইলেও সরকার থেকে কোনো ভাতা পাই না। কত বয়স হলে বয়স্ক ভাতার কার্ড পামু! তয় অনেকেই আমারে দয়া করে খাবার-দাবার, টাকা-পয়সা দেয়। তাতে ঠিকমতো খেতে পারি না।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শহিদুজ্জামান মাহমুদ বলেন, কেউ বৃদ্ধ হালিমনের বিষয়ে কোনো খোঁজ দেয়নি। তার বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এছাড়া তিনি যদি সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করেন তাহলে তাকে ভাতার আওতায় আনা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *