বাঁশের সাঁকোই হাজারো মানুষের একমাত্র ভরসা

রাকিবুল ইসলাম রাফি, রাজবাড়ী- রাজবাড়ীর কালুখালি উপজেলার মুরারীখোলা গ্রামের পাগলের ঘাট এলাকায় হাজারো মানুষের একমাত্র চলাচলের পথ হলো একটি বাঁশের সাঁকো। এই সাঁকো দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে জনগণ চলাচল করে আসছে বছরের পর বছর।

স্থানীয় সাংসদের পক্ষ থেকে সেতু তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবায়নের কোনো পদক্ষেপই নেই বলে ভুক্তভোগী মানুষের অভিযোগ।

জানা গেছে, রাজবাড়ীর কালুখালি উপজেলার মুরারীখোলা এলাকায় পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধের পাশে পাগলের ঘাটের অবস্থান। সেখানে স্থানীয় জনগণ নিজ উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন। প্রতিবছর এই সাঁকোটি তাঁরা নিজ উদ্যোগে সংস্কারও করে আসছেন। সাঁকোটি দিয়ে প্রতিদিন ১০-১৫টি গ্রামের মানুষ চলাচল করে। সেই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে কোনোরকমে চলাচল করা গেলেও জনগণের দুর্ভোগ কমছে না।

কালুখালি উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের ১০-১৫টি গ্রামের প্রায় ১১ হাজার মানুষের বসবাস। এসব মানুষের প্রতিদিন বাজারঘাটসহ নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য রতনদিয়া বাজারে যেতে সাঁকোটি পার হতে হয়। স্থানীয় জনগণ নিজ উদ্যোগে তাঁদের যাতায়াতের জন্য নির্মাণ করেছেন একটি বাঁশের সাঁকো।

পশ্চিম হারুয়া গ্রামের বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা খাঁন বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে শুধু প্রতিশ্রুতিই দেওয়া হচ্ছে কিন্তু তা বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগই দেখা যাচ্ছে না।’

মুরারীখোলা গ্রামের বাসিন্দা নিখিল চন্দ্র দাস বলেন, ‘গ্রামের মানুষজনের কত কষ্ট তা তো দেইকপারে পাইতোছেন।’ পাগলের ঘাটের ব্যবসায়ী বাসেত আলী বলেন, ‘যানবাহন না চলায় মালামাল নিয়ে যাওয়া-আসায় খুব কষ্ট হয়।’

রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মেহেদী হাসিনা পারভীন বলেন, ‘১০-১৫টি গ্রামের মানুষজনের চলাচলের কোনো পথ না থাকায় স্থানীয় জনগণ বাধ্য হয়ে এই সাঁকোটি তৈরি করেছেন। এখানে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও এখনো তার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’

কালুখালি উপজেলা প্রকোশলী তৌহিদুল হক জোয়াদ্দার বলেন, ‘আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছি। সেতু নির্মাণ প্রকল্পের চেষ্টা চলছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *