নজর২৪ ডেস্ক- ঢালিউডের এই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত নায়িকা শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমণির বাসায় অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধারের মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্রে বেশ কিছু বিষয়ে অসংগতি পাওয়া গেছে।
বনানী থানায় দায়ের করা ওই মামলার জব্দ তালিকায় দেখানো মদের বোতলে যে পরিমাণ অ্যালকোহল দেখানো হয়েছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদনে তারচেয়ে অনেক কম মাত্রার অ্যালকোহল পাওয়া গেছে। সিআইডির অভিযোগপত্রে এমনটাই বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নায়িকার বাসা থেকে জব্দকৃত ১৮ লিটার তরলের বড় অংশই ছিল পানি। আর অ্যালকোহলের পরিমাণ ছিল ১১ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত। যদিও মামলায় এর কয়েক গুণ অ্যালকোহল থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
আদালত সূত্র সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে। পরীমনির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের হওয়া মামলায় আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
গত বছরের ৪ আগস্ট রাতে বনানীর বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ আটক করা হয় পরীমনিকে। পরদিন ৫ আগস্ট বনানী থানায় মাদক আইনে মামলা করা হয় পরীর বিরুদ্ধে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, পরীমনির জিম্মা থেকে আট বোতল জনি ওয়াকার প্লাটিনাম লেবেল ব্লেন্ডেড স্কচ হুইস্কি, তিন বোতল জনি ওয়াকার ব্ল্যাক লেবেল ব্লেন্ডেড স্কচ হুইস্কি, দুই বোতল শিভাস রিগ্যাল ব্লেন্ডেড স্কচ হুইস্কি, দুই বোতল দ্য গ্লেন লিভেট, একটি বোতলে গ্লেনফিডিক এবং দুটি বোতলে ফক্স গ্রোভ জব্দ করা হয়। এসব পানীয়র বোতলের গায়ে অ্যালকোহলের মাত্রা লেখা ছিল ৪০ থেকে ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত।
এরপর জব্দ হওয়া আলামত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। সিআইডি সাতটি বোতলে রাখা তরল পদার্থ পরীক্ষা করে মতামত দেয়। এগুলোয় ১৪ দশমিক ২, ১২ দশমিক ৬, ১১ দশমিক ৭, ১২ দশমিক ১, ১৫ দশমিক ২ ও ১১ দশমিক ২ শতাংশ অ্যালকোহল পাওয়া গেছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পরীমনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে বিদেশি মদপানের অনুমতি নিয়েছিলেন। এর মেয়াদ ছিল ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। পরে তিনি আর এর মেয়াদ বাড়াননি। অভিনেত্রী কবে এই মদ কিনেছিলেন, অভিযোগপত্রে তার উল্লেখ নেই।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক কাজী গোলাম মোস্তফা বলেন, মদে অ্যালকোহলের পরিমাণ নির্ধারণের পরীক্ষা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সেদিন রাতে জব্দ হওয়া ফোন, ল্যাপটপ, আইপ্যাড, মেমোরি কার্ড, মডেম মাদক মামলায় কী কাজে এসেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এসব জবাব এখন দিতে পারব না।’
অভিনেত্রী পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত বলেন, এই মামলায় অসঙ্গতিগুলোর বিষয়ে তারা অবগত আছেন। আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের কারণে তারা এখনই গণমাধ্যমকে বিস্তারিত বলতে চান না। তবে আদালতকে পরবর্তী শুনানিতে তারা এসব বিষয়ে অবহিত করবেন।
