দুইদিন হালকা বৃষ্টি হবে: আবহাওয়া অধিদপ্তর

নজর২৪ ডেস্ক- পৌষের শুরুতে বয়ে যাওয়া এক দফা মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শীতের তীব্রতার অনুভূতি রেখে গেছে।

 

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, গাণিতিক হিসাবে শৈত্যপ্রবাহ না থাকলেও বেশ কুয়াশা, মেঘলা আকাশ ও উত্তরী হাওয়ায় তাপমাত্রা কমেছে। এতে শীতের অনুভূতি কমছে না।

 

রোববার (২৬ ডিসেম্বর) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায় ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বলে। আর তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে বলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ।

 

আবহাওয়াবিদ মো. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘এই মাসে শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা খুবই কম। তবে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শীতের অনুভূতি থাকবে। ঠান্ডা অনুভূত হবে শীতের তীব্রতাও থাকবে। তবে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে গিয়ে যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে সেই সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম।’

 

তিনি বলেন, ‘ভোর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা পড়বে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা কম আছে বলে শীতের অনুভূতি আছে। সকালে কুয়াশার কারণে ভূ-পৃষ্ঠ উত্তপ্ত করতে পারছে না সূর্য, এতে রাজশাহী পাবনা, রংপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, সিলেট ও শীমঙ্গলে, কুষ্টিয়া, পাবনা অঞ্চলে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। ঢাকায় ঠান্ডা একটু কম।’

 

আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘২৮ ও ২৯ ডিসেম্বরের দিকে রংপুর বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির পর শীতের অনুভূতি একটু বাড়বে।’

 

এদিকে জানা গেছে, উত্তরের হিমেল বাতাসে হিমালয়কন্যা পঞ্চগড়ের জনজীবন অতিষ্ঠ। প্রতি বছরের মতো এ বছরো শুরু হয়েছে শৈত্যপ্রবাহ ও প্রচণ্ড ঠাণ্ডা।

 

গতকাল শনিবার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ছিল না সূর্যের তাপমাত্রা। গত শুক্রবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

 

এরই মধ্যে এই জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ও প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় হতদরিদ্র মানুষের জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। শ্রমজীবী খেটে খাওয়া ছিন্নমূল মানুষগুলো শীতবস্ত্রের অভারে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সকালে তীব্র শীতের কারণে কাজে যেতে পারছে না। আবার দু’বেলা খাবার ও কিস্তির কারণে অনেকে এ শীতের মধ্যেই যুক্ত হচ্ছে কাজে।

 

গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকেই কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ নজরে আসে। রাতের বেলা কম্বল-লেপ গায়ে নিলেও প্রচুর ঠাণ্ডা অনুভব হচ্ছে। রাত থেকে হিমেল বাতাস আর কুয়াশায় ঢেকে যায় এলাকা।

 

কুয়াশার চাদর ভেদ করে গতকাল শনিবার সারা দিন তেমন সূর্যের দেখা মিলেনি। সন্ধ্যা নামার আগেই গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ বাড়িতে খড়কুটো জ্বেলে শীত নিবারণের প্রচেষ্টা চালায় শীতার্ত মানুষজন। ভোর থেকে প্রায় বেলা ১১টা পর্যন্ত কুয়াশায় ঢাকা ছিল চারদিক। কুয়াশার কারণে অনেকে হেড লাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চালিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *