‘৮ দিন নয়, আমার রায়হানকে যেন আট বছর ধরে দেখি না’

নজর২৪ ডেস্ক- অবিরাম দু’চোখে অশ্রুধারা। কথা বলতে পারছেন না দমকে দমকে উঠা কান্নার চাপে। তিনি কথা বলছেন, আর কাঁদছেন। কিছুক্ষণ পরপরই মুছে যাচ্ছেন দু’চোখ। বুকের ভেতরে উথলে ওঠা এ কান্না থামানোর যে কোনো পথ নেই।

 

আট দিন নয়, তার কলিজার টুকরা ছেলে যেন ৮ বছর ধরে তার থেকে দূরে। ৮ বছর থেকে তিনি তাঁর নাড়িছেড়া ধনকে দেখেন না। সংবাদ সম্মেলনে এমন করুণ আর হৃদয়বিদারক অভিব্যক্তি প্রকাশ করলেন রায়হানের গর্ভধারিণী মা সালমা বেগম।

 

সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি মডেল ধানাধীন বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ‘নি- র্যা- ত- নে’ রায়হান আহমদের মৃ’ত্যুর ৮দিনের মাথায় তাঁর পরিবার ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

 

রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর আখালিয়া নেহারিপাড়াস্থ গুলতেরা মঞ্চিলে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বক্তব্য রাখেন রায়হানের মা সালমা বেগম। পরে ৬টি দাবি পেশসহ ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন স্থানীয় মুরুব্বি শওকত হোসেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সালমা বেগম বলেন, আমার ছেলে কোনো দল করতো না। তাকে পি- টি- য়ে হ- ত্যা করা হয়েছে। আমার একটাই দাবি, আমার ছেলের হ-ত্যা কারী-দের ফাঁ- সি চাই।

 

রায়হানের মা আরও বলেন, এলাকা এবং এলাকার বাইরেও আমার ছেলের কোনো শত্রু ছিলো না। তাই, আকবর এবং তার সহযোগিদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আমার ছেলেকে হত্যার আসল কারণ জানা যাবে।

 

সালমা বেগম বলেন, আমার ছেলে রায়হান অত্যন্ত সহজ-সরল টাইপের। সকালে একবার ঘুম থেকে উঠার পর আবার ঘুমিয়ে যেতো। পরে ঘুম থেকে উঠে বিকাল ৩টার দিকে ডিউটিতে যেতো। আর তার মেয়ের জন্মের পর থেকে তো আরেকটু দেরি করে ডিউটিতে যেতো। বাড়িতে থাকা সময়টুকু মেয়ের সঙ্গে খেলা করেই কাটাতো রায়হান। ডিউটি শেষ হলে দ্রুত বাড়িতে চলে আসতো সে মেয়ের টানে। রায়হানকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে অমানুষরা। এখন তার আড়াই মাস বয়েসি মেয়েটি কী করবে? আমি কীভাবে বুকে পাথর বাঁধবো?

 

সাংবাদিকদের আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, টাকায় তো আর আমার ছেলে হারানোর ক্ষতিপূরণ হবে না। আমি শুধু এটাই চাচ্ছি যে- আমার ছেলের হত্যাকারীদের প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হোক। কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিলেও আমার ছেলেকে তো আর ফিরে পাবো না। ক্ষতিপূরণ একটাই- আমার ছেলে হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, স্থানীয় কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান, ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেক উদ্দিন তাজ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইলিয়াসুর রহমান, কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপন, নারী কাউন্সিলর রেবেকা বেগম, সাবেক কমিশনার জগদীশ দাশ ও রায়হানের চাচা হাবিবুল্লাহ প্রমুখ।

 

এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে পুলিশের নির্যাতনে নিহত হয় রায়হান উদ্দিন (৩৩) নামের ওই যুবক। নিহত ওই যুবক সিলেটের আখালিয়ার নেহারিপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে।

 

পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছিনতাইকালে গ-ণ- পি-টু- নিতে মারা গেছেন রায়হান। তবে নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভি’যোগ, পুলিশ ধরে নিয়ে নি’ র্যাতন করে রায়হানকে হ’ত্যা করেছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠিন করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ।

 

এদিকে রোববার দিবাগত রাতে নিহত রায়হানের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজন আসামি করে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *