নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাংগাইলের নাগরপুর উপজেলার দপ্তিয়র ইউনিয়নে কালভার্ট সেতু নির্মাণের পর এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না করায় দুর্ভোগে রয়েছে হাজারো জনগণ। মূল সেতুতে স্থানীয় উদ্যোগে বাশ দিয়ে পুল নির্মাণ করে ঝুকি নিয়ে জনসাধারণ সেতু ব্যবহার করছে।
এই সংক্রান্ত সংবাদ ২০ আগস্ট, ২০২১ ইং তারিখে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
গত তিন বছর ধরে ৩টি কালভার্ট সেতু নির্মাণ করার পর সেতুর দুই পাশে সড়ক না করেই কাজ অসমাপ্ত রেখেই চলে গেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ফলে ভোগান্তি নিয়ে যাতায়াত করছে দপ্তিয়র নজির আলী উচ্চ বিদ্যালয় হতে কদিম কাকনা পর্যন্ত এলাকার বাসিন্দারা। টেন্ডার অনুযায়ী ১০ আগস্ট ২০১৯ সাল তারিখে কাজ শুরুর কার্যাদেশ দেওয়া হয় এবং ১০ আগস্ট ২০২০ সাল তারিখের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সিংহ ভাগ কাজ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান চলে যায়। এতে পুরো উন্নয়ন কার্যের মূল লক্ষ্য ভ্রষ্ট হয়।
সরেজমিনে, আজ ৬ সেপ্টেম্বর উল্লেখিত কদিম কাকনা এলাকা ঘুরে দেখা যায় সার্বিক সড়কের চিত্র আগের মতোই আছে। এছাড়াও সেতু ব্যবহার না করে খাল দিয়েই যাতায়াত করছে স্থানীয় জনসাধারণ। স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা এলাকাবাসী জেনেছি কাকনা সড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু আজ পুরো এলাকা ঘুরে দেখলাম কাজ কিছুই শুরু হয়নি। এখন দুর্ভোগ আরোও বেড়েছে।
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার আনিছুর রহমান আনিছ মুঠোফোনে বলেন, আমি শারীরিক ভাবে অসুস্থ এবং খালে পানি আছে বিধায় অবশিষ্ট কাজ শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে। আমরা দ্রুত কাজ শুরু করে দিবো।
নাগরপুর উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান মুঠোফোনে জানায়, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নির্দেশনা দেওয়া আছে প্রথমেই সড়ক সংস্কার করে চলাচল উপযোগী করা হবে। ঠিকাদার অবশিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্ন করবে।
এ বিষয়ে এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী টাঙ্গাইল মোঃ রফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, আমাদের ফান্ডের সমস্যা সমাধান হয়েছে। সংশ্লিষ্ঠ কাজের স্থানে খালে এখনো পানি থাকায় কাজ শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে। অতিদ্রুত সংশ্লষ্ট ঠিকাদার কাজ শুরু করবে।
উল্লেখ্য, উপজেলার ঐতিহাসিক দপ্তিয়র হাট (কাকনা হাট) এর দিন কদিম কাকনা সড়কের ব্যস্ততা বেড়ে যায় দ্বিগুন। এই সড়ক দিয়ে ধুবড়িয়া এবং সলিমাবাদ ইউনিয়নের জনগণ যাতায়াত করে থাকে। দপ্তিয়র নজির আলী উচ্চ বিদ্যালয় হতে কদিম কাকনা পর্যন্ত এলাকার বাসিন্দারা।
উক্ত এলাকায় উন্নয়নের জন্য প্রায় ৪৭৫০-৬৩৫০মিটার পর্যন্ত বিসি দ্বারা উন্নয়ন এবং একই সড়কে ৫৯০০ মিটার ১টি বক্স কালর্ভাট সেতু নির্মাণ, ৫৫৬০ ও ৫৭৫০ মিটার আরো ২টি বক্স কালর্ভাট সেতু নির্মাণের টেন্ডার দেওয়া হয় মেসার্স ফ্রেন্ডস কনষ্ট্রাকশন নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে যায় প্রাক্কালিন মূল্য ২ কোটি ৩৭ লক্ষ ৭৪ হাজার ৯১৩ টাকা, চুক্তি মূল্য ২ কোটি ১৬ লক্ষ ৭৬ হাজার ১৭৩ টাকা।
টেন্ডার অনুযায়ী ১০ আগস্ট ২০১৯ সাল তারিখে কাজ শুরুর কার্যাদেশ দেওয়া হয় এবং ১০ আগস্ট ২০২০ সাল তারিখের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সিংহ ভাগ কাজ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান চলে যায়।
