ছুরি ধরে ধ.র্ষ.ণে.র চেষ্টা, পুলিশিং সভায় এসে চাচা শ্বশুরের বিচার চাইলেন গৃহবধূ

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি- ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সিংরইল ইউনিয়নের মহাবৈ গ্রামে চাচা শ্বশুরের বিরুদ্ধে গৃহবধুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

 

শনিবার ওই এলাকায় অনুষ্ঠিত হওয়া নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ প্রতিরোধের এ পুলিশিং সভায় এ ঘটনা প্রকাশ করে বিচার চায় নির্যাতিতা গৃহবধূ। পরে ওই গৃহবধুর স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি, ও এলাকার লোকজনকে নিয়ে থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

 

জানা যায়, গত প্রায় তিন বছর আগে বিয়ে হয় ওই নারীর। জীবিকার কারণে তার স্বামী ও শ্বশুরসহ অনেকেই ঢাকায় থেকে দিনমজুরের কাজ করেন। বাড়িতে দাদি শাশুড়িকে সাথে নিয়ে নিজের ঘরে বসবাস করেন ওই নারী। এ অবস্থায় বেশ কিছুদিন ধরে চাচা শ্বশুর এরশাদ উদ্দিন তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতেন। একপর্যায়ে অনৈতিক প্রস্তাবও দেয়। রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দেয়। স্বামীকে ভয়ে ও লজ্জায় এ কথা বলতে পারেনি গৃহবধূ। উত্ত্যক্তকারী চাচা শ্বশুরকে বিভিন্ন সময় অনুনয়-বিনয় করে তার সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা না করার জন্য। কিন্তু চাচা শশুরকে উত্ত্যক্তকেরা থেকে কোনভাবেই থামানো যায়নি।

 

ওই গৃহবধু জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে নিজ ঘরে দাদি শাশুড়িকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। তার দাদি শাশুড়ি প্রাকৃতিক ডাক সারতে বাইরে যান। এ সুযোগে চাচা শ্বশুর এরশাদ উদ্দিন ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। সম্ভ্রম বাঁচাতে ধস্তাধস্তি করলে এরশাদ হাতে থাকা ছুরি গলায় ধরে ফের ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় দাদি শাশুড়ি ঘরে প্রবেশ করতেই দৌড়ে পালিয়ে যায়।

 

পরদিন সকালে এ ঘটনা এলাকার লোকজনকে জানালে তারা স্থানীয় চেয়ারম্যানকে জানাতে জানায়। পরে চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম মীমাংসা করবেন বলে আশ্বস্ত করেও আর কোনো ধরণের খোঁজখবর নেননি। এর মধ্যে শনিবার স্থানীয় সিংরুইল বাজারে স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ এলাকার অনেকের উপস্থিতিতে নারী নির্যাতনসহ ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে পুলিশের এক সভা চলছিল। সেখানে ওই নারী উপস্থিত হয়ে বিচার দাবি করেন।

 

সেখান থেকেই নান্দাইল মডেল থানার এএসআই মো. শাহিন মিয়া ওই নারীকে থানায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পরে ওই নারী তার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বজনদের নিয়ে বিচার চাইতে থানায় আসেন।

 

এ বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান আকন্দ জানান, ওই নারীর বক্তব্য শুনে লিখিত এজাহার দেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তদন্ত করে মামলা নেওয়া হবে।

 

সিংরুইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরদিন বিচার চাইলেও পরে ওই গৃহবধূ তার কাছে আর আসেনি। সালিসে মীমাংসার কথা বলা হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *