নজর২৪, টাঙ্গাইল- টাঙ্গাইলের সখীপুরে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে আট মাস সংসার করার অভিযোগ উঠেছে এক প্রেমিক যুগলের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, বিয়ের জন্য চাপ দিতেই প্রেমিক পালিয়ে গেছেন। বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে বসেছেন কলেজছাত্রী প্রেমিকা।
টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাহার্তা রামখাপাড়া কটাবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী তরুণী আবাসিক মহিলা অনার্স কলেজের ছাত্রী। আর প্রেমিক জাকারিয়া ইসলাম রাব্বী ওই গ্রামের প্রবাসী লুৎফর রহমানের ছেলে এবং সরকারি মুজিব কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী।
সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, বিয়ের দাবি ওঠায় গা-ঢাকা দিয়েছেন প্রেমিক। প্রেমিকের পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়িতেই আছেন। তবে তাঁরা ঘরের দরজা বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান করছেন। আর ঘরের বাইরে অনশন করছেন ওই কলেজছাত্রী।
কলেজছাত্রী জানিয়েছেন, ঘরে ঢোকার চেষ্টাকালে তাঁকে লাথি মেরে ফেলে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিয়ে না হলে ওই বাড়িতেই আ ত্মহ ত্যা করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে মেয়েটি।
ভুক্তভোগী তরুণীর ভাষ্যমতে, দেড় বছর আগে রাব্বির এক বন্ধুর মাধ্যমে মোবাইল ফোনে প্রথম পরিচয় হয় ওই ছাত্রীর। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়। একপর্যায়ে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পৌরসভার উত্তরা মোড় এবং ক্যাপ্টেন মোড় এলাকায় পৃথক দুটি বাসাভাড়া নিয়ে আট মাস স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে একসঙ্গে থাকা শুরু করেন তারা। পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলে টালবাহানা শুরু করেন রাব্বি। নিরূপায় হয়ে রোববার (১৪ নভেম্বর) থেকে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন ওই কলেজছাত্রী।
রাব্বির দাদা আবদুর রহমান বলেন, নাতি অন্যায় করেছে। মাতব্বরা যে ব্যবস্থা নেবেন আমরা তা মেনে নেবো।
সখীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর খলিলুর রহমান বলেন, গত রাতে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য উভয় পক্ষকে নিয়ে বসা হয়। পরে ছেলে পক্ষের অনীহার কারণে নিষ্পত্তি সম্ভব হয়নি।
বর্তমান কাউন্সিলর ফজলুর রহমান বলেন, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছে। সুষ্ঠু ব্যবস্থা না হলে আইনের আশ্রয় নেবেন বলে জানিয়েছেন ওই কলেজছাত্রীর বাবা।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে সাইদুল হক ভূঁইয়া বলেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
