প্রেম করে বিয়ে, ‘প্রিয় স্ত্রীকে’ ফিরে পেতে স্বামীর কান্ড

নজর২৪ ডেস্ক- নরসিংদী সদর উপজেলার মানিক রোড এলাকার গাছে গাছে স্বামী-স্ত্রীর ছবিসহ একটি ফেস্টুন ঝুলছে যেখানে লেখা আছে, ‘ও সুমিরে তোমায় ছাড়া ভালো লাগে না। তুমি যে আমারই, শুধু যে আমারই চিরদিন কাছে থাক না। ইতি তোমার স্বামী মজিবর রহমান।’

 

প্রিয় স্ত্রীকে ফিরে পেতে এমনি এক ঘটনা ঘটিয়েছেন মজিবর রহমান নামে এক স্বামী। পেশায় ইজিবাইক চালক। একমাত্র বৃদ্ধা মাকে নিয়ে বসবাস করেন নরসিংদী শহরের নাগরিয়াকান্দি এলাকায়। বাবা জয়নাল গাজী মারা গেছেন প্রায় ২০ বছর আগে। ইজিবাইক চালিয়ে সংসার চালান তিনি।

 

জানা গেছে, কয়েক বছর আগে রায়পুরা উপজেলার কামারটক এলাকার নজরুল ইসলামের বড় মেয়ে সুমি বেগমের সঙ্গে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে তার। পরে তাদের বিয়ে হয়। মজিবর তার নিজ বাড়িতেই স্ত্রী ও একমাত্র বৃদ্ধা মাকে নিয়ে থাকেন।

 

এদিকে প্রায় দেড় মাস আগে ইজিবাইক চালিয়ে বাড়ি ফিরে মজিবর দেখেন তার স্ত্রী বাড়িতে নেই। পরদিন শ্বশুরবাড়ি গিয়ে স্ত্রীকে আনতে চাইলে বাধা দেন শাশুড়ি লিলি বেগম। এ সময় মজিবর জানতে পারেন পরিবারের বড় হওয়ায় সুমিকে শিবপুর উপজেলার বিসিক আমতলার একটি গার্মেন্টে চাকরি দিয়েছেন তার মা।

 

পরে স্ত্রী না আসায় মজিবর একপ্রকার পাগলপ্রায় হয়ে পড়েছেন। তিনি স্ত্রীকে ফিরে পেতে বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু বিলবোর্ড টাঙিয়েছেন।

 

মজিবর রহমান বলেন, প্রেম করে বিয়ে করি। প্রায় ৩ বছর ধরে সংসার করছি। প্রথমে জানতাম সুমির বাবা-মা কেউ নেই। বিয়ের ৬ মাস পরে জানতে পারি, তার বাবা-মা আছে।

 

তিনি আরও বলেন, আমার বউকে সহজ-সরল পেয়ে শ্যালিকা আর শাশুড়ি ফুসলিয়ে গার্মেন্টসে কাজে দেয়। সুমিকে ফিরে পেতে ২৫টি বিলবোর্ড টাঙিয়েছি।

 

মজিবর রহমানের মা রাশিদা বেগম বলেন, আমরা বউকে কোনো কষ্ট দেইনি। বউটাও ভালো ছিল। কিন্তু সমস্যাটা হলো সুমির পরিবারের।

 

মরজাল ইউপি চেয়ারম্যান সানজিদা সুলতানা বলেন, কামারটেক আমার ইউনিয়নে পড়েছে। সেই গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে সুমি বেগমকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। তবে আমি বিষয়টির খোঁজ নেবো। কীভাবে কী করা যায়, কী সমস্যা তাদের তা খুঁজে বের করে সমাধান করার চেষ্টা করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *