নজর২৪ ডেস্ক- সুনামগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিককে ‘বিনা ভোটের এমপি’ আখ্যা দিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন দোয়ারাবাজার উপজেলার ক্ষমতাসীন দলের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুর রহিম।
সোমবার দুপুরে উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের টেংরাটিলায় বয়স্ক ভাতা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিজ দলের সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের এই উপজেলা চেয়ারম্যান। তার এই বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযাগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সংসদ সদস্যের সমর্থকরা তার বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। অপরদিকে, এমপি-বিরোধীরা এমন কথা বলার জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছেন তাকে।
উপজেলা চেয়ারম্যান ডা. আব্দুর রহিম বলেন, ‘এই যে রাস্তাঘাটের কথা বলছেন, আমার নাতি সাক্ষী,প্রত্যেকটা উপজেলা মিটিংয়ে আমরা স্পষ্ট বলছি, আপনে (এমপি মানিক) অন্তত আমরার দুইটা রাস্তা ঠিক করে ৬ টা ইউনিয়নকে উপজেলা পরিষদে আনার ব্যবস্থা করে দেন। উনি কোনো কথা বলেন না। আমি কী করমু? ’
তিনি বলেন, ‘আমি কয়দিন আগে বলছি, মাননীয় এমপি মহোদয় আপনার কছে ২০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ আছে। অনুগ্রহ করে ছদকায়ে জারিয়া হিসাবে, লিল্লা হিসাবে কিছু বরাদ্দ দেন। কোন উত্তর নাই।
এরপর উপজেলা চেয়ারম্যান ডা. আব্দুর রহিম বলেন, ‘ঘটনাটা বুঝেননি? সত্যি কথা ডাক্তার রহিমে কয়। যদি ভোটের এমপি হইতেন, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতেন। ভোট কে দেয় জানেননি। হাছা কথা কই, জেল-ফাঁসি হইলে আমার হইব। সেন্টারে আপনারা যাইবার আগে ভোট শেষ। তো এমপির কোনো দায়বদ্ধতা আছে? বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকলে মুহিবুর রহমান মানিক ভোট দিলেও এমপি না দিলেও এমপি। ভোট দিলে তো(উন্নয়নের জন্য) উনারে দায়ী করতা।’
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের ব্যক্তিগত সহকারী মোশাহিদ আলী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আশা করব অবিলম্বে ক্ষমা চেয়ে এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে মানুষের আস্থা, ভালবাসা ও সম্মান রাখতে সচেষ্ট হবেন উপজেলা চেয়ারম্যান। বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে তিনি নিজের দায় অন্যের উপর চাপানোর চেষ্টা করছেন।’
এদিকে এরপরই উপজেলা চেয়ারম্যান ও এমপি মানিক সমর্থকদের মধ্যকার সৃষ্ট উত্তেজনা নিষ্পত্তি হয়। জানা যায়, গতকাল বুধবার বিকালে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম হলরুমে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও দলীয় অঙ্গসংগঠন কর্তৃক আয়োজিত প্রতিবাদ সভা চলাকালে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম বীরপ্রতীকের মধ্যস্থতায় সহসা সভায় এসে উপস্থিত হন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুর রহিম।
তিনি তার বক্তব্যে উপস্থিত নেতাকর্মীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করলে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নিষ্পত্তি হয়। এসময় সবাই একযোগে দলমত নির্বিশেষে এমপি মানিকের নেতৃত্বে দোয়ারাবাজার উপজেলার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
