রায়হানের মরদেহ কবর থেকে তোলা হবে আগামীকাল

নজর২৪, সিলেট- সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান উদ্দিনের (৩০) মরদেহ পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) কবর থেকে তোলা হবে। সকাল ৯টায় মরদেহটি কবর থেকে তোলার কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার খালেদুজ্জামান।

 

বুধবার (১৪ অক্টোবর) (১৩ অক্টোবর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল বাতেনের আবেদনের প্রেক্ষিতে রায়হানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহফুজুর রহমান। মামলার তদন্তে জড়িত একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

এদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশক্রমে মামলাটির দায়িত্ব পাওয়ার পর বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে ঘটনাস্থল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি ও কাস্টঘর এলাকা পরিদর্শন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এরপর বিকালে রায়হানকে তুলে নেয়ার জায়গা কাস্টঘর ও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিহত রায়হানের বাড়ি আখালিয়া নেহারিপাড়া এলাকায় যায় পিবিআই তদন্ত দল।

 

এসময় পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মো. খালেদুজ্জামান জানান- রায়হান হত্যা মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর সকাল থেকেই পিবিআই মাঠে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে যা যা করার দরকার সবই করবে পিবিআই।

 

উল্লেখ্য, রোববার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নগরের আখালিয়ার নেহারিপাড়া এলাকার তৎকালীন বিডিআরের নায়েক মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে রায়হান উদ্দিন। ৬টা ৪০ মিনিটের সময় গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির এএসআই আশেকে এলাহী।

 

মারা যাওয়ার পর রায়হানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। তার হাতের নখও উপড়ানো ছিল। এ ঘটনার পর পুলিশের বিরুদ্ধে হেফাজতে নির্যাতন করে রায়হানকে মেরে ফেলার অভিযোগ ওঠে। রায়হানের মৃত্যুর জন্য দায়িত্বহীনতার দায়ে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

 

এর মধ্যে এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া মঙ্গলবার সকালে পুলিশ লাইন থেকে পালিয়ে গেছেন। তাকে খুঁজছে পুলিশ। বাকি ছয়জন পুলিশ লাইনে রয়েছেন।

 

ময়নাতদন্তের পর গত রোববার বাদ এশা নগরের আখালিয়া জামে মসজিদে জানাজা হয় রায়হান উদ্দিনের। পরে আখালিয়া জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।

 

মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটনে সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে রায়হান উদ্দিনের মরদেহ পুনরায় ময়নাতদন্তের আবেদন জানানো হয়। বুধবার আদালত পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দেন।

 

শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রায়হানকে ধরে নিয়ে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে রায়হানকে ওসমানী হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান। তিনি সিলেট নগরের আখালিয়া নেহারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার প্রথম দিকে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছেন রায়হান।

 

বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান উদ্দিনকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে নিহতের পরিবার। এ ঘটনায় রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এসএমপির কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি।

 

মামলাটি মঙ্গলবার বিকেলে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআইতে) স্থানান্তর করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *