নজর২৪, চট্রগ্রাম- চট্টগ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে বর ও কনেপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, খাবার টেবিলে বরপক্ষের একজন তৃতীয়বার গরুর মাংস চেয়ে না পেয়ে উত্তেজিত হয়ে যান। এরপর কথা কাটাকাটি থেকে উভয়পক্ষের লোকজন মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন।
শনিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মৌলভীর দোকান এলাকায় নিরিবিলি কমিউনিটি সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। এতে কনের বাবা-মা ও বরসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে নিরিবিলি কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলার ছদাহা পূর্ব কাজীর পাড়া (খামারপাড়া) কালা মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ শাহজাহানের সাথে নোয়াখালীর সুবর্ণচর চরওয়াবদা ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা (বর্তমানে চট্টগ্রামের চন্দনাইশের হাছনদন্ডী) জসিম উদ্দিন ফারুকের মেয়ে মুক্তা বেগমের বিয়ের খাবার দাবারের আয়োজন চলছিল। এসময় খাবার টেবিলে বর পক্ষের এক ব্যক্তিকে তৃতীয়বার অতিরিক্ত গরুর মাংস এনে না দেওয়ায় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারামারি শুরু করে।
ঘটনা থামাতে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে তাদেরকেও মারধর করা হয়। পরে বর নিজে এসে মারামারিতে যোগ দেন। এতে উভয় পক্ষের অনেকেই আহত হন।
মেয়ের চাচা আলাউদ্দিন বলেন, বিয়েতে বর পক্ষের ৩শ’ লোককে খাবারের কথা থাকলেও দুপুর দেড়টা পর্যন্ত (বর) তাদের চারশ’ জনেরও বেশি খাওয়ানো হয়। এসময় খাবার টেবিলে বর পক্ষের এক ব্যক্তিকে তৃতীয়বার অতিরিক্ত গরুর মাংস এনে না দেওয়ায় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারামারি শুরু করে। ঘটনা থামাতে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে তাদেরকেও মারধর করা হয়। পরে বর নিজে এসে মারামারিতে যোগ দেন।
আহতদের মধ্যে যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন, কনের বাবা জসিম উদ্দিন ফারুক (৪৮), কনের মা রাশেদা বেগম (৩৫), মামা বাবুল (৩০), বর মোহাম্মদ শাহজাহান (২৮) মানিক (২৮), মো. রফিক (৩০) ও হুমায়ূন (২০)।
উপজেলার ছদাহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোসাদ হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘বিয়ের অনুষ্ঠানে মারামারির ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। যেহেতু অনুষ্ঠানের আগে বর-কনের আকদ হয়ে গেছে তাই আমিসহ এখন (রাত সাড়ে ৭টা) বউ নিয়ে আসতে যাচ্ছি।’
সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিয়েতে মাংস কম দেওয়ার ব্যাপারে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনা জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি।’
