রাজিব আহমেদ রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অন্যের জায়গা জোড় জবরদস্তি দখল করে বেড়া নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যাক্তি ও ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের নাড়ুয়া গ্রামে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ নাড়ুয়া গ্রামের মৃত জয়নাল প্রামানিকের ছেলে মালেক প্রামানিকের সাথে প্রতিবেশী তারা খাঁ এর সাথে দীর্ঘদিন জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। ইতিমধ্যে বিরোধপূর্ণ জায়গায় বেশ কয়েকদফা মাপ জোগ করা হয়েছে তার পরেও বিরোধ নিস্পত্তি হয়নি।
ভুক্তভোগী মালেক প্রামাণিক জানান, আমাদের জায়গা কয়েক দফায় মাপ দেওয়া হয়েছে প্রত্যেক বারই আমার জায়গার সীমানা তারা খাঁর বিল্ডিংয়ের ১০ ফুট ভেতরে গেছে। এর পরেও আমি দখলে যেতে পারিনি বরং আমাকে বঞ্ছিত করেই গ্রাম্য প্রধানরা বিল্ডিংয়ের সীমানা পর্যন্ত আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছিল। পরে যখন আমরা সেখানে পাকা দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা করি তখন আমাদের তারা খাঁ, তার ছেলে রাশিদুল হাসান ও তার বাহিনী আমাদের বাধা ও হুমকি দেয়।
তিনি আরো জানান, রবিবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৭ টায় তারা খাঁ, তার ছেলে রাশিদুল ও স্থানীয় ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মোমিন দলবল নিয়ে আমাদের অনুপস্থিতিতে আমার জায়গা জোড় পূর্বক দখল করে বেড়া দেয়। তিনি আভিযোগ করে বলেন ইউপি সদস্য তারা খাঁ ও তাদের একজন নেতার কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে পক্ষপাতমূলক ভাবে আমার জায়গা দখল করে দিয়েছেন।
এই অভিযোগের বিষয়ে তারা খাঁর ছেলে রাশিদুল ইসলাম বলেন, গ্রাম্য প্রধানগণ, প্রতিবেশী ও শাহজাদপুরে গণমাণ্য কিছু ব্যক্তির উপস্থিতিতে কয়েক দফা মাপ হওয়ার পরেই স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মোমিন আমাদের জায়গা বুঝিয়ে দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, জায়গা মাপের বিষয়ে মালেক প্রামাণিকের আপত্তি থাকায় গত শনিবার আবারও মাপ হওয়ার কথা ছিল। মানিক প্রামাণিক উপস্থিত না হওয়ায় ইউপি সদস্য সহ ও অভিযোগকারী জয়নাল প্রামাণিকের আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতেই আমার জায়গায় বেড়া দেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে মালেক প্রামাণিক বলেন, মোমিন মেম্বারকে আমি অনেকবার বলেছিলাম যে আমার ছেলেরা শাহজাদপুরের বাইরে থাকে তারে এলে যেনো জায়গা মাপা হয়। কিন্তু আমার কথায় কোন কর্ণপাত না করে মোমিন মেম্বার আমাদের আত্মীয় হয়েও তারা খাঁর পক্ষ নিয়ে তার বাহিনীর মাধ্যমে রবিবার আমার জায়গা দখল করে বেড়া নির্মাণ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উক্ত গ্রামের একজন বাসীন্দা জানান, বিরোধপূর্ণ জায়গাটিতে এখনও কোন ধরণের মিমাংসা হয়নি।
এই বিষয়ে হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মোমিন বলেন, স্বচ্ছতার সাথে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতেই উভয়পক্ষের মধ্যে বিরোধপূর্ণ জায়গা কয়েক দফ মাপা হয়েছে। মালেক প্রামাণিকের দাবি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে তিনি জানান।
