নজর২৪ ডেস্ক- কুমিল্লার নানুয়াদিঘীর পাড়ে সেই পূজামণ্ডপে ‘কুরআন রেখে আসা’ এক যুবককে সিসি ক্যামেরার ভিডিও দেখে চিহ্নিত করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, সিসিটিভির ফুটেজের সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি ইকবাল হোসেন বলে নিশ্চিত করেছেন তার ভাই রায়হান। কুমিল্লা নগরীর সুজানগর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন ইকবালের পরিবার।
শনাক্ত হওয়া ব্যক্তি ইকবাল হোসেন সুজানগর এলাকার নূর আহম্মদ আলমের বড় ছেলে। ইকবালের ছোটভাই রায়হান বলেন, ‘সিসিটিভির ফুটেজের এই মানুষ আমার ভাই। সে পাগল। ঘটনার এক সপ্তাহ আগে খেলার মাঠে তাকে নিয়ে ছেলেপুলেরা দুষ্টুমি করায় সে সবাইকে জুতা দিয়ে মে রে ছিল। তবে নে শা করে কিনা সেটা আমি জানি না। সে যে মানুষ মাকে পাথর নিয়ে মা র তে চায় সে বুঝে শুনে এমন কাজ করার কথা না। ওকে চা-পানি, নাস্তা করালে যা বলবে তাই করবে।’
ইকবালের মা বিবি আমেনা বলেন, তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্য বড় ইকবাল। সে নে শাগ্র স্ত হয়ে নানাভাবে পরিবারের সদস্যদের অ ত্যা চার করতো। বিভিন্ন সময় রাস্তাঘাটে মানুষকে হয়রানি করতো। গোসলখানায় দরজা বন্ধ করে ই য়া বা সে ব ন করতো। ইকবাল মাজারে মাজারে থাকতো। বিভিন্ন সময় আখাউড়া মাজারে যেতো। কুমিল্লার বিভিন্ন মাজারেও তার যাতায়াত ছিল।
আমেনা বেগম জানান, ইকবাল ১৫ বছর বয়স থেকেই মা দ ক সেবন শুরু করে। ১০ বছর আগে বরুড়া উপজেলায় বিয়ে করেছেন ইকবাল। তার এক ছেলে। বিয়ের পাঁচ বছর পর স্ত্রীর সঙ্গে ইকবালের ডিভোর্স হয়। তারপর চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়াবাজার এলাকার কাদৈর গ্রামে বিয়ে করেন। এই সংসারে এক ছেলে এক মেয়ে। ইকবালের স্ত্রী-সন্তান এখন কাদৈর গ্রামে থাকেন।
তার মা দাবি করেন, বখাটেপনার কারণে গ ণ পি টু নি র শিকার হন ইকবাল। এরপর থেকে তার আচরণে সবাই অ তিষ্ঠ। ইকবালকে পেলে আপনারা বিচার করবেন। এই সন্তানের জন্য আমার পরিবারটা শেষ হয়ে গেছে।
ঘটনার পর থেকে ইকবালের বাবা পুলিশকে সহায়তা করছেন বলেও জানান ইকবালের মা বিবি আমেনা ও ভাই রায়হান।
এদিকে, গতকাল বুধবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভির ভিডিওটি আমি দেখেছি। এতে দেখা যাচ্ছে এক যুবক মসজিদ থেকে কোরআন শরিফ নিয়ে রাস্তার দিকে আসছে। কিছুক্ষণ পর (প্রায় এক ঘণ্টা পর) দেখলাম তার হাতে কোরআন শরিফ নেই। হনুমান ঠাকুরের গদা হাতে নিয়ে তিনি ঘোরাঘুরি করছেন।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি গতকালও বলেছি তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ওই যুবক মোবাইল ব্যবহার না করার কারণে তাকে ট্র্যাক করা যাচ্ছিল না। এখন পর্যন্ত তিনি ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করছেন। আমরা তাকে নজরদারিতে রেখেছি। যে কোনো সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।’
