ইকবাল মাদকাশক্ত, তার কর্মকাণ্ডে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ: স্থানীয় কাউন্সিলর

নজর২৪ ডেস্ক- কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখা ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ওই ব্যক্তির নাম ইকবাল হোসেন (৩০)। ইকবালকে গ্রেপ্তারে গত কয়েক দিন ধরে চলছে জোর অভিযান।

 

ইকবাল হোসেনের ন্যাশনাল আইডি কার্ড (এনআইডি) অনুসারে তার বাবার নাম নূর আহমেদ আলম। মায়ের নাম আমেনা বিবি। জন্ম তারিখ ৬ আগস্ট, ১৯৯২। বাড়ি কুমিল্লার সুজানগর এলাকায়। তার বাবা মাছের ব্যবসা করেন।

 

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ইকবাল হোসেনকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন। বুধবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, পুলিশের একাধিক সংস্থার তদন্তে এটা সম্ভব হয়েছে। ইকবালকে গ্রেপ্তারে গত কয়েক দিন ধরে চলছে জোর অভিযান।

 

জানতে চাইলে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ সোহেল গণমাধ্যমকে বলেন, ১০ বছর ধরে ইকবালকে চিনি। প্রায় সময় আমার কার্যালয়ের আশপাশেই থাকে। রঙমিস্ত্রির কাজ করতো। মাঝে মধ্যে নির্মাণ শ্রমিকের কাজও করতো। ইয়াবা সেবন করে। ইকবালকে নিয়ে অনেকেই অভিযোগ দিতো। তার কর্মকাণ্ডে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। তবে কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নয়। কোনও দলের কর্মী কিংবা সমর্থকও নয়।

 

তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিল। বিয়ের পর স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ায় মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। আমার মনে হয়, তার মানসিক অসুস্থতাকে কাজে লাগিয়ে তৃতীয় পক্ষ কাজটি করেছে। পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ঘৃণা প্রকাশ করছে। তবে ওই ঘটনার পর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

 

এদিকে ইকবাল হোসেনের মা আমেনা বেগমও জানালেন একই তথ্য। বলেন, তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্য বড় ইকবাল। সে নেশাগ্রস্ত হয়ে নানাভাবে পরিবারের সদস্যদের অত্যাচার করতো। বিভিন্ন সময় রাস্তাঘাটে মানুষকে হয়রানি করতো। গোসলখানায় দরজা বন্ধ করে ইয়াবা সেবন করতো। ইকবাল মাজারে মাজারে থাকতো। বিভিন্ন সময় আখাউড়া মাজারে যেতো। কুমিল্লার বিভিন্ন মাজারেও তার যাতায়াত ছিল।

 

ইকবালের মা বিবি আমেনা বেগম জানান, ইকবাল ১৫ বছর বয়স থেকেই মা দ ক সেবন শুরু করে। ১০ বছর আগে বরুড়া উপজেলায় বিয়ে করেছেন ইকবাল। তার এক ছেলে। বিয়ের পাঁচ বছর পর স্ত্রীর সঙ্গে ইকবালের ডিভোর্স হয়। তারপর চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়াবাজার এলাকার কাদৈর গ্রামে বিয়ে করেন। এই সংসারে এক ছেলে এক মেয়ে। ইকবালের স্ত্রী-সন্তান এখন কাদৈর গ্রামে থাকেন।

 

পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। ১০ বছর আগে বন্ধুদের সঙ্গে পাড়ার কিছু ছেলের মা রা মারি হয়। এ সময় ইকবালের পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়। তখন থেকে ইকবাল অসুস্থ। উল্টাপাল্টা চলাফেরা করায় বিভিন্ন সময় চোরের অপবাদ দিয়ে তাকে স্থানীয়রা মারধর করতো। পরে তারাই আক্ষেপ করতো। ভালো ক্রিকেটও খেলতে পারতো ইকবাল। কয়েক দিন আগে কাউন্সিলরের কাছ থেকে শুনেছি, ইকবাল পূজামণ্ডপ থেকে হনুমানের গদা নিয়ে আসে। এরপর থেকে এলাকায় তাকে নিয়ে চলছে আলোচনা।

 

ইকবালের ছোট ভাই রায়হান বলেন, ইকবালকে খুঁজতে পুলিশের সঙ্গে গত শুক্রবার থেকেই আছি। ইকবাল ভালো কোরআন তিলাওয়াত করতে পারেন।

 

রায়হান জানান, তার ভাই যদি অন্যায় করে থাকেন, যদি তা সত্য হয়, তাহলে তার শাস্তি হোক। তবে ইকবাল কারও প্ররোচনায় এমন কাজ করতে পারেন।

 

কুমিল্লা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, গত বুধবারের ওই ঘটনার পর গত এক সপ্তাহে ঢাকা ও কুমিল্লা পুলিশের কয়েকটি দল তদন্তে নামে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ইকবাল হোসেনের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

 

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ইকবাল হোসেন ভবঘুরে। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, এখন ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ ওই ব্যক্তিকে খুঁজছে দেশের সব গোয়েন্দা সংস্থা। ওই ব্যক্তিকে ধরা গেলে তাকে কারা ব্যবহার করছে, তাদের নাম-পরিচয়ও জানা যাবে।

 

কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেছেন, আগামীকাল এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *