নজর২৪ ডেস্ক- পণ্য না পেয়ে বিনিয়োগকারীরা ইভ্যালির অফিসে গিয়ে পাওনা টাকা চাইলে খারাপ আচরণ করা হতো। এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দেন আসামিরা। বাদীকে ই-মেইলে এবং ফোনের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে ভয় দেখান তারা।
মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক নাজমুল হুদা। রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা এসব কথা বলেন।
রিমান্ড আবেদনে তিনি বলেন, বাদীর পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য আসামিদের চিঠি দেওয়ার পরও তারা বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তারা ৩০ দিনের মধ্যে পণ্য সরবরাহের কথা থাকলেও তা করেননি। পরে পাওনা টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। টাকা পরিশোধের জন্য আসামিদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করলেও তারা কর্ণপাত করেননি।
রিমান্ড আবেদনে তিনি আরও বলেন, পণ্য না দেওয়ায় তাদের অফিসে গিয়ে পাওনা টাকা চাইলে বিভিন্ন তালবাহানাসহ বাদীর সঙ্গে খারাপ আচরণ ও তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এই মামলার সব আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে পণ্যে উল্লেখিত টাকা পরিশোধ না করে প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাৎ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে রিমান্ড আবেদনের শুনানি করেন মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি সাজ্জাদুল হক শিহাব ও তাপস পাল। অন্যদিকে দুই আসামির পক্ষে আইনজীবী ব্যরিস্টার এম মনিরুজ্জামান আসাদ রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন শুনানি করেন।
শুনানি শেষে বিচারক রাসেলকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিলেও শামীমাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আরিফ বাকের নামে এক গ্রাহক গত ১৬ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় রাসেল ও শামীমার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করার পর সেদিনই মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাব।
পরদিন পুলিশ তাদের আদালতে হাজির করলে ঢাকার মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলাম তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে ওই দম্পতিকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
রাসেল ও শামীমা রিমান্ডে থাকা অবস্থায় ধানমণ্ডি থানায় তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন কামরুল ইসলাম চকদার নামের এক গ্রাহক। সেই মামলাতেই মঙ্গলবার রাসেলকে নতুন করে রিমান্ডে পাঠাল আদালত।
