নজর২৪ ডেস্ক নিউজ: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সাকিল ব্যাপারী (১৬) নামের এক কিশোরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোড়পূর্বক চল্লিশোর্ধ্ব প্রতিবন্ধী নারীর সাথে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সাকিল ব্যাপারী শাহজাদপুর উপজেলার চর-গুধিবাড়ি গ্রামের বাবুল ব্যাপারীর ছেলে।
এই বিষয়টির তথ্য সংগ্রহে শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নে গেলে ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক ও তার ভাই নজরুল ব্যাপারী দৈনিক দেশের কন্ঠ পত্রিকা ও সময়ের কন্ঠস্বর পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি সাংবাদিক রাজিব আহমেদ রাসেল ও তার সহকর্মী সাহেব আলীকে অবরুদ্ধ, লাঞ্ছিত ও ভয়ভীতি দেখায়।
সাকিলের পিতা বাবুল ব্যাপারী জানায়, তার ছেলে সাকিল তার নানীর সাথে গত শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের ভেড়াকোলা পশ্চিমপাড়ায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায়।
পরে ভেড়াকোলা পশ্চিমপাড়ার শাহজাহান ব্যাপারীর ছেলে নজরুল ব্যাপারী, দৈয়ম ব্যাপারী ও ভাতিজা শামসুল হক তার ছেলে সাকিলকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও চাপসৃষ্টি করে শাহজাহান ব্যাপারীর প্রতিবন্ধী মেয়ে (৪০) এর সাথে কাজী এনে বিয়ে দেয়।
সাংবাদিক রাজিব জানান, অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হতে সরেজমিনে উপজেলার ভেড়াকোলা পশ্চিমপাড়ায় শাহজাহান ব্যাপারীর বাড়িতে গেলে শুরুতেই তার ছেলে নজরুল ব্যাপারি আমাদের সাথে অসদাচরন করে কথা বলে।
তাকে সাকিলের সাথে বিয়ের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, সাকিলের বাবা, মা, আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতেই তার প্রতিবন্ধী বোনের বিয়ে হয়েছে। পরে ছেলের বাবার অভিযোগের বিষয়ে তাকে অবহিত করা হলে তিনি জোড়পূর্বক বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন বাবা মা লাগবে না ছেলের নানী-ই অভিভাবক।
সাকিলের সাথে দেখা করা ও কথা বলতে চাওয়া হলে নজরুল ব্যাপারী ও তার চাচাতো ভাই শামসুল হক সাংবাদিকদের উপর উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তারা সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ধাক্কাধাক্কি ও হুমকি দিতে থাকেন। পরে সাংবাদিক রাজিব ও তার সহকর্মী সাহেব আলীকে একটি ঘরে জোড়পূর্ব অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে এলাকার লোকের সহায়তায় তারা অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পান।
তিনি আরো জানান, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, হুমকি ও অবরুদ্ধ করে রাখার বিষয়ে সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর রাতেই ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক ও তার চাচাতো ভাই নজরুল ইসলামকে বিবাদী করে শাহজাদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে।
শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খান জানান, সাংবাদিক রাজিব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
