রাজিব আহমেদ রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার: সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলা হলো বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা গুলোর একটি। অথচ শাহজাদপুর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বাড়াবিল উত্তরপাড়ার প্রায় ৩ হাজার বাসিন্দা একটি সড়কের অভাবে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
সরেজমিনে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল উত্তর পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, জামে মসজিদের পশ্চিম পাশে পাকা সড়ক খেকে কাঁচা মাটির অসমতল পায়ে হাটার রাস্তা চলে গেছে হাজী নুরল সর্দারের বাড়ি পর্যন্ত। প্রায় ১ কি:মি: আয়তনের এই রাস্তাটি ব্যাবহার করেন এই গ্রামের প্রায় ৩ হাজার বাসিন্দা।
পার্শ্ববর্তী টেটিয়ারকান্দা, নারায়নদহ ও কাংলাকান্দাসহ বেশকয়েকটি এলাকার মানুষ এই কর্দমাক্ত রাস্তাটি ব্যাবহার করে থাকে। বাড়াবিল উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জামে মসজিদ, মাদ্রাসা ও দুধ সমিতি সহ পৌর সদরের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ সহ্য করতে হয়।
কয়েকশো স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী প্রতিদিন এই ভোগন্তি অতিক্রম করেই তাদের স্কুলে যেতে হয়। স্কুলে যাবার পথে শিশুরা কাদায় পিছলে পরে গিয়ে কাপড় নোংড়া হয়ে যায়, ফলে সেদিন তাদের আর স্কুলে যাওয়া হয়না।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন সময় স্থানীয় জনগন ও জনপ্রতিনিধিরা রাস্তা তৈরির উদ্দোগ নিলেও স্থানীয় প্রভাবশালী ইনকাম ট্যাক্স কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও তার ভাই মোশারফ হোসেন ক্ষমতার দাপটে রাস্তা নির্মাণে বিভিন্ন রকম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। রাস্তার জায়গা দখল করে খালে রুপান্তর করে গোবর রাখে ও রাস্তার উপর দিয়ে গোবর মিশ্রিত পানি দিয়ে পথচারিদের দুর্ভোগে সৃষ্টি করে।
তারা আরও বলেন, রাস্তা যেন না হয় সেজন্য তারা ইতিমধ্যে গ্রামবাসী ও সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মিথ্যা মামলা করে গ্রামবাসীকে জিম্মি করে রেখেছেন। কেউ তাদের বিষয়ে কোন কথা বললেই তার বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও শাহজাদপুর থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নিওন মাহমুদ বলেন, নজরুল ইসলাম ও তার ভাই মোশারফ হোসেনের কারণে এই মহল্লার প্রায় ৩ হাজার বাসিন্দা বছরের পর বছর ধরে নুন্যতম নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত। পৌরসভা থেকে ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার রাস্তার জায়গা নির্ধারণ করা হলেও এই দুই ভাই দিনের পর দিন সেই জায়গা দখল করে হাটাচলার পথে গোবর রাখার চৌবাচ্ছা বানিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ৩ হাজার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার মেয়রের কাছে দ্রুত প্রতিবন্ধকতা নিরসন করে রাস্তা নির্মাণের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের আহবান জানাই।
স্থানীয় হাফিজিয়া মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মোজাহার আলী বলেন, আমাদের মাদ্রাসার শতাধিক ছাত্রী এই পথ ব্যবহার করে থাকে। একটু বৃষ্টি হলেই তারা মাদ্রাসায় যেতে পারেনা, কাপড়-চোপড়ে কাদা ও ময়লা লেগে থাকে।বৃদ্ধ মানুষ, অসুস্থ্য রোগী ও গর্ভবতী নারীদের এই পথে যেতে আরো বেশি সমস্যায় পরতে হয়। তাই কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাই যেনো দ্রুত এই পথটি উচু করে রাস্তা নির্মাণ করা হয়।
শাহজাদপুর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রউফ বলেন, এই গ্রামের বাসিন্দাদের দুর্ভোগের বিষয়টি চিন্তা করে আমি কয়েক দফা এই রাস্তায় মাটি ফেলে চলাচলের উপযুক্ত করেছিলাম। এই রাস্তাটির সাবেক মেয়র হালিমুল হক মিরুর সময় এই রাস্তাটির জন্য ২ দফায় টেন্ডার দেওয়া হয়। কিন্তু স্থানীয় নজরুল ও মোশারফ দুই ভাই বিভিন্ন কুটকৌশল অবলম্বন করে রাস্তার কাজে বাধা গ্রস্থ করে এবং আমার নামে ও এলাকার বেশ কয়েকজনের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে।
শাহজাদপুর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মোঃ আফছার আলী জানান, এই রাস্তাটি নির্মাণ হওয়া অত্যান্ত প্রয়োজন। আমাদের গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোর হাজার হাজার মানুষ এই পথটি ব্যবহার করে। আশা করছি এলাকাবাসী দ্রুত এই দুর্ভোগ হতে পরিত্রাণ পাবে।
বিষয়টি নিয়ে শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র মনির আক্তার খান তরু লোদী বলেন, শাহজাদপুর পৌরসভার একটি রাস্তাও মাটির থাকবে না। প্রতিটি রাস্তাই পাকা করন করা হবে। বাড়াবিল উত্তরপাড়ার বিষয়ে আমি পূর্ব থেকেই অবহিত রয়েছি। দ্রুত সেখানে সকল জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতা নিরসন করে নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হবে।
