নজর২৪ ডেস্ক- আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির সিও মোহাম্মদ রাসেল বলেছেন, এই মুহূর্তের সবচেয়ে প্রয়োজনী বিষয় হলো আপনাদের সাপোর্ট। বিগত দিনগুলোতে যারা পণ্য পেয়েছেন তারা আমাদের পাশে থাকুন, পজিটিভ কমেন্ট করুন।
তিনি দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে বলেন, আমরা শীঘ্রই আমাদের ডেলিভারির প্রতিটি ইনভয়েস বাজার মূল্যসহ প্রকাশ করব। সেখান থেকে আপনারা হিসেব করে দেখবেন আমরা কত টাকা অর্ডার পেয়েছি এবং কত টাকা ডেলিভারি করেছি। ইভ্যালির কোন দুর্নীতি করেনি।
বিনিয়োগের বিষয়ে মোহাম্মদ রাসেল বলেন, আপনাদের সাপোর্ট পেলে বিনিয়োগ পেতে বেশি সময় লাগবে না। প্রয়োজন শুধুই পজিটিভ মনোভাব।
অর্ডার ডেলিভারির বিষয়ে বলেন, ইভ্যালি ৮০ (আশি) লক্ষ অর্ডার ডেলিভারি করেছে বিগত দিনগুলোতে। নতুন নিয়মে মানিয়ে নিয়ে বিজনেস করতে হয়তো কিছুটা সময় লাগছে। ভরসা রাখুন এবং কিছুটা সময় দিন। ইভ্যালি আপনাদের সকল অর্ডার ডেলিভারি করবে।
এই সময় তিনি কাস্টমারদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা চাই ইভ্যালি পুরাতন সকল অর্ডার ডেলিভারি করুক। আমরা চাই ইভ্যালি বিনিয়োগ পাক। কিন্তু আবার আমরাই সকল জায়গাতেই ইভ্যালির বিরুদ্ধেই বলি। অনেকেই অর্ডার করতে নিরুৎসাহিত করি।
এর আগে এক ফেসবুক পোস্টে ইভ্যালির সিও বলেন, আমাদেরকে একটু সুযোগ দিন, ইভ্যালি বাংলাদেশের অ্যামাজন হবে।
তিনি আরও ‘বলেন, বাংলাদেশের ই-কমার্স উন্নতি করবেই। বেঁচে থাকলে ২০২৫ সালের মধ্যে ইভ্যালি হবে দেশের সবচেয়ে বড় ইন্ডাস্ট্রি। শুধু আপনারা আমাদের সেই সুযোগটুকু দেন।’
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর দুই থেকে তিন মাসের আগাম সময় নিয়ে প্রায় অর্ধেক মূল্যে পণ্য সরবরাহের লোভনীয় বিভিন্ন ‘অফার’ দেওয়া শুরু করে ইভ্যালি। তাতে অল্প সময়ের মধ্যে সারাদেশে মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, এসি, প্রাইভেটকারসহ নানা পণ্যের ক্রেতাদের সমারোহ ঘটেছিল ইভ্যালিতে।
স্বল্প মূল্যের এসব পণ্যের জন্য টাকা নেওয়া হতো অগ্রিম। কিন্তু কিছু ক্রেতাকে পণ্য দিয়ে বাকিদেরকে অপেক্ষায় রাখার কৌশল নিয়ে তারা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্ত করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর মন্ত্রণালয় ইভ্যালির বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করে।
এদিকে গত ২৬ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ইভ্যালির পক্ষ থেকে জমা দেওয়া দায়-দেনার হিসাবে দেখা যায়, দুই লাখ ১৪ হাজার গ্রাহক ইভ্যালির কাছে পণ্য কেনার জন্য বুকিং দিয়েছেন। গত ১৫ জুলাই পর্যন্ত বুকিং বাবদ গ্রাহকরা ইভ্যালির কাছে ৩১০ কোটি টাকা পাবেন।
সূত্র বলছে, দুই লাখ ১৪ হাজার গ্রাহকের মধ্যে অধিকাংশই তাদের মূল টাকা ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
তবে ইভ্যালির কল সেন্টার থেকে গ্রাহকদের বলা হচ্ছিল, অচিরেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির সংকট আরও বাড়ছে। সর্বশেষ ইভ্যালির এমডি ও চেয়ারম্যানের ব্যাংক হিসাব তলবের পর যমুনা গ্রুপও প্রতিশ্রুত বিনিয়োগ থেকে সরে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বেতন না হওয়ায় ইভ্যালির অধিকাংশ কর্মী চাকরি ছেড়েছেন।
