সুযোগ দেন, ইভ্যালি বাংলাদেশের অ্যামাজন হবে: রাসেল

নজর২৪ ডেস্ক- দেশের বর্তমান সময়ের আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল ৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) রাত ১১ টায় ফেসবুক লাইভে আসেন। ইভ্যালির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, অগ্রগতি এবং ডেলিভারি সিস্টেমের তথ্য শেয়ার করেন তিনি।

 

লাইভের প্রথমভাগে নিজেদের উৎপত্তির প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন মোহাম্মদ রাসেল।

 

তিনি বলেন, “২০১৪ সালে আমি সোলার লাইট এবং ভেন্ডিং মেশিন এর বিজনেস শুরু করি।সেটায় লস হওয়ার পর ২০১৬ সালে বাচ্চাদের জন্য নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড তৈরির লক্ষ্যে “কিডস” নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করি।ঢাকায় সেটির ডিস্ট্রিবিউশন ভালো হলেও অন্য জেলাগুলোতে আমরা পৌছাতে পারিনি।

 

পরে চিন্তা করলাম আমাদের মতো অন্য এরকম অনেক প্রতিষ্ঠানই আছে যারা শুধু ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল এবং বিনিয়োগ সমস্যার কারণে আগাতে পারছে না। সেই চিন্তা থেকেই ইভ্যালির শুরু। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করে ইভ্যালি।”

 

ই-কমার্স নিয়ে সমালোচনা অনেক হলেও এটির চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অনেকেরই ধারনা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন,

 

‘শুধু টাকা থাকলেই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান শুরু করা যায় না। যত টাকাই থাক ইভ্যালির মতো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান খোলার মতো সাহস অনেকেই করতে পারবে না। কারণ এখানে আপনি নির্দিষ্ট কোনো প্রডাক্ট নিয়ে ডিল করছেন না। এখানে আপনাকে হাজারো প্রডাক্ট নিয়ে লাখো গ্রাহকের সাথে একই সময়ে ডিল করতে হচ্ছে। এটি করার সাহস সবার হয় না।’

 

তিনি আরো যোগ করেন, ‘ইভ্যালি কঠিন সময়েও জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের আজ অবধি ৭ লক্ষ ১৮ হাজার ডেলিভারি দিয়েছে। গত ১৫ দিনেই ২৭ হাজার প্রডাক্ট ডেলিভারি হয়েছে। তবে এটা ঠিক নানামুখী চ্যালেঞ্জে আমাদের প্রডাক্ট ডেলিভারির গতি কিছুটা কমেছে।’

 

টি-১০ প্রসঙ্গে ইভ্যালির সিইও বলেন, ‘টি-১০ ক্যাম্পেইনে আমরা সফল হতে পারিনি শিকার করছি। এর কারণ অনেক কোম্পানি ভীতির কারণে আমাদের প্রডাক্ট দেওয়া কমিয়ে দিয়েছে। টি-১০ নতুন ক্যাম্পেইন হবার কারণে অনেক কিছুই নতুনভাবে আমাদের ঠিক করতে হয়েছে। আশা করছি এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে এটি ঠিক হয়ে যাবে।’

 

বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এতো অভিযোগের পরও অনেক বিদেশি বিনিয়োগের অফার পাচ্ছি প্রতিনিয়ত। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শুধু কিছু বিধিনিষেধের কারণে এখনো আমাদের সাথে পুরোপুরি চুক্তিতে যেতে পারছে না।’

 

‘বিনিয়োগ না পেলেও আগামী ৫ মাসের মধ্যে ইভ্যালি পুরনো অর্ডার ডেলিভারি দিবে এটি আমি আশা করছি। ৮০% কাভার করতে পারলেও আমরা ভালো অবস্থানে থাকবো।’

 

বাংলাদেশের ই-কমার্সের ভবিষ্যৎ অবস্থা নিয়ে ইভ্যালির সিইও বলেন, ‘বাংলাদেশের ই-কমার্স উন্নতি করবেই। বেঁচে থাকলে ২০২৫ সালের মধ্যে ইভ্যালি হবে দেশের সবচেয়ে বড় ইন্ডাস্ট্রি। শুধু আপনারা আমাদের সেই সুযোগটুকু দেন।’

 

এসময় বাণিজ্য মন্ত্রনালয়সহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইভ্যালিকে যারা সুযোগ দিচ্ছেন বেঁচে থাকার এবং প্রমাণ করার যে ইভ্যালি পারবে তাদের প্রতি আজ আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। একটু সুযোগ দেন, ইভ্যালি এবং ইভ্যালি টিম প্রমাণ করতে পারবে ইভ্যালি বাংলাদেশের অ্যামাজন হবেই।’ এসময় সবার কাছে দোয়া চান  ইভ্যালির সিইও রাসেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *