সিলেট উপনির্বাচন: বেশিরভাগ কেন্দ্রই ফাঁকা, বাড়ি থেকে আনতে হচ্ছে ভোটারদের

নজর২৪, সিলেট- বার বার তফশিল ঘোষণা ও ভোটের তারিখ পেছানোর পর অবশেষে সিলেট-৩ আসনে উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ।

 

শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। তবে প্রথমবারের মতো এ আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ করা হলেও কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের তেমন ঝটলা নেই।

 

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ক্রোরী গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেলিবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্বভাগ সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাজী মোহাম্মদ রাজা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে ভোটারের দেখা মেলেনি। তবে কেন্দ্রগুলোতে কয়েকজন নারী ভোটারকে দেখা যায়।

 

তেলিবাজার কেন্দ্রে ভোটার মণি ইসলাম বলেন, ‘পুরুষরা কাজে চলে গেছেন ভোট না দিয়েই। তাই বোনকে নিয়ে ভোট দিতে এসেছি।’

 

এর আগে সকাল ৯টায় ইছরাব আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রও দেখা যায় একেবারে ফাঁকা। মাঝেমধ্যে একজন দুজন কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছেন। এই কেন্দ্রে ভোট দিতে যাওয়া সাইফুর রহমান বলেন, ‘উপনির্বাচন হওয়ায় এই ভোট নিয়ে মানুষের তেমন আগ্রহ নেই। সব দল নির্বাচনে না আসায়ও ভোটার কম।’

 

সকাল ১০টায় পশ্চিমভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় কয়েকজন নারী ভোটার আছেন। পুরুষ বুথ প্রায় ফাঁকা। সেখানে ভোট দিতে যাওয়া গৃহবধূ সাহেলা বেগম বলেন, ‘বাড়ির পুরুষরা সকালেই কাজে চলে গেছেন। ভোট দিতে আসেননি। আমাদের বাড়ি থেকে নিয়ে আসছে।’

 

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনের ভোট চলছে দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জে। তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনের ভোটার প্রায় সাড়ে ৩ লাখ। ভোট সকাল ৮টা থেকে শুরু হলেও দুপুর ১২টা পর্যন্ত দক্ষিণ সুরমার ১৬টি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে ভোটার খরা।

 

এসব কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২০ শতাংশ ভোট পড়েছে। যদিও সকালে তারা আশা করেছিলেন যে বেলা বাড়তে থাকলে ভোটার বাড়বে।

 

সিরাজ উদ্দিন আহমদ অ্যাকাডেমি সেন্টারে দুপুর ১২টায় গিয়ে একজন ভোটারও দেখা যায়নি। এই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমার কেন্দ্রে সকালে ভালো ভোটার ছিল। এখন রোদের কারণে কিছুটা কম। ১২টা পর্যন্ত ৩০০ ভোট পড়েছে।’

 

তিন উপজেলার মধ্যে দক্ষিণ সুরমার মতো অবস্থা ফেঞ্চুগঞ্জেও। সেখানেও সকাল থেকে ভোটার উপস্থিতি একেবারে কম। তবে, বালাগঞ্জে সে তুলনায় ভোটার বেশি। বালাগঞ্জ ডি এল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, দুপুর ১২টা পর্যন্ত সেখানে প্রায় ২৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।

 

সেখানে আওয়ামী লীগের কর্মীদের বেশ তৎপর দেখা গেছে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন। তবে, অন্য প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের তেমন দেখা যায়নি।

 

বালাগঞ্জের শ্রীরামপুর বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের সেন্টার কমিটির দায়িত্বে আছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য তাহমিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘এই ভোট নিয়ে মানুষের আগ্রহ নেই। তবু আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের আনার চেষ্টা করছি।’

 

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের আতিকুর রহমান আতিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোটরকার প্রতীকের বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ও সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমেদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের জুনায়েদ মোহাম্মদ মিয়া ডাব প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

 

এর আগে শুক্রবার দুপুরে সকল নির্বাচনী সরঞ্জাম কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তিন উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এসব নির্বাচনী সরঞ্জাম নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হয়। একইসঙ্গে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্ব স্ব কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *