নজর২৪, ঢাকা- আজ শনিবার (০৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টায় লাইভে আসছেন দেশের বর্তমান সময়ের আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল। বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ ঘোষণা দেন তিনি।
নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে রাসেল লিখেছেন, ‘আগামী শনিবার লাইভে এসে বিগত এক মাসের অগ্রগতি, ভবিষ্যত পরিকল্পনা এবং বর্তমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলব। আমার শুরু থেকেই একটি বিশ্বাস যেহেতু ইভ্যালির একটি শক্তিশালী ইকমার্স প্রতিষ্ঠান, সময় পেলে সকল সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমরা বেশ কিছু ক্ষেত্রেই আমাদের পরিকল্পনা মতোই এগিয়েছি। আশা করি সময়ের মধ্যেই সব সফল করতে পারব। আমরা আগামী পাঁচ মাসের মাঝেই সকল অর্ডার ডেলিভারি করব ইনশাল্লাহ। লাইভ: শনিবার রাত ১১টা।’
আরও পড়ুন-
বিশ্বাস করুন, আপনাদের সহযোগিতা পেলে ঘুরে দাঁড়াতে পারব: ইভ্যালির রাসেল
নজর২৪ ডেস্ক- ২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করে ই-কমার্স প্লাটফর্ম ইভ্যালি। লোভনীয় ডিসকাউন্ট কিংবা ক্যাশ ব্যাকের অফার দিয়ে দ্রুতই গ্রাহকদের কাছে পরিচিতি পেয়ে যায় প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু সময়মত পণ্য না দেওয়াসহ নানা অভিযোগে বর্তমানে সমালোচনার শীর্ষে অবস্থান করছে ইভ্যালি।
এদিকে আলোচিত সমালোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিতে এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছিল দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপ যমুনা। কিন্তু সম্প্রতি এ সিদ্ধান্ত থেকে অনেকটাই সরে আসে শিল্প গ্রুপটি।
এছাড়া ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও এমডির নামে পরিচালিত সব অ্যাকাউন্টের তথ্য ও ৫০ লাখ বা তার বেশি টাকা লেনদেনের চেক ও রশিদের কপি চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) রাতে ফেসবুকে সবার সহযোগিতা চেয়ে স্ট্যাটাস দেন ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল।
স্ট্যাটাসে ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী লেখেন, ‘এই গ্রুপ থেকে জানতে পারবেন আমাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম। স্বীকার করছি, এটা সন্তোষজনক নয়। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আমরা শুধুমাত্র আপনাদের সহযোগিতা পেলে ই-কমার্স বিজনেস থেকেই ইভ্যালি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।’
ক্রেতা ও গ্রাহকদের উদ্দেশ্য করে রাসেল বলেন, ‘আমাদের এখানে হয়ত আপনার অর্ডার নেই। আমরা অনেকের ডেলিভারি দিতে পারছি না দেখে হয়ত আপনি নেতিবাচক মন্তব্য করছেন। আমাদের সকল ট্রানজেকশন ব্যাংকিং চ্যানেলেই করেছি। আমরা কোনো আর্থিক দুর্নীতি করিনি।
আমাদের ঘাটতি হয়েছে পণ্যে ডিসকাউন্ট দিয়ে ই-কমার্সের প্রতি মানুষকে আকর্ষণ তৈরি করার জন্য। হয়ত আমাদের কোনো ব্যবসায়িক ভুল থাকতে পারে। কিন্তু এই ব্যবসায়িক ভুল সঠিক ব্যবসায়িক পদ্ধতি দিয়ে আমরা সমাধান করব। আমি শুধু ৬ মাস সময় চেয়েছি। আর বাকি ৫ মাস।
ইভ্যালির এমডি জানান, আমি জানি এ দেশে বিশাল পরিসরে ই-কমার্স বিস্তার লাভ করবে। এই স্বপ্ন থেকেই আমার সমস্ত কার্যক্রম। আমি আছি, আমরা আছি। ব্যর্থ হলেও আমাকে পাবেন ভবিষ্যতে। কিন্ত কোনো সুযোগ দেওয়ার আগে আমাদের ব্যর্থ বললে আমরা হয়ত বর্তমান গতি বাড়াতে পারব না। শুধুই একটা অনুরোধ, আপনি যদি ইভ্যালির নিকট কোন পণ্য বা টাকা পাওনা না থাকেন, তাহলে নেতিবাচক মন্তব্য এ কিছুদিন না করুন।
বর্তমান বিজনেস দিয়ে যদি এ পেন্ডিং ডেলিভারি কমাতে পারি, অন্তত প্রতিদিন কিছু মানুষ তো পণ্য পাবেন। দিন শেষে কারো ভালো কামনা করা একটি মহৎ গুণ। এই ভালো কামনা ফলাফল পাবেন আমাদের কাস্টমার এবং আমাদের সেলার, যারা দুশ্চিন্তার মধ্যে সময় পার করছেন।’
