ফের কোম্পানীগঞ্জে আ.লীগের দু’গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

নোয়াখালী প্রতিনিধি- নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ফের আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপ পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

 

শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার হলরুম থেকে আগামীকাল রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলার রংমালা বাজারে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা।

 

অপরদিকে, রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেতুমন্ত্রীর ভাগনে ও উপজেলা আ.লীগের মুখপাত্র মাহবুবুর রশীদ মঞ্জু ফেসবুক লাইভে এসে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন পক্ষে একই বাজারের রংমালা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন।

 

জানা যায়, কাদের মির্জা অনুসারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরী বাবুলকে রংমালা দারুস সুন্নাহ সিনিয়র মডেল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির পদ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে রংমালা বাজারে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা।

 

অপরদিকে, রাত ৯টার দিকে সেতুমন্ত্রীর ভাগনে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মাহবুবুর রশীদ মঞ্জু তাদের অনুসারী ওলামা লীগ নেতা ও রংমালা দারুস সুন্নাহ সিনিয়ির মডেল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আবদুল্লাহ আল মামুনকে অপমানের প্রতিবাদে একই স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয়।

 

স্থানীয় একাধিক সূত্র বলছে , দুই পক্ষই কর্মসূচি সফল করতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। দুটি গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এসব কর্মসূচিকে ঘিরে আবার উত্তাল হয়ে উঠেছে কোম্পানীগঞ্জ।

 

এ সময় মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা বলেন, আমাদের দলের সভাপতিকে অন্যায়ভাবে রংমালা মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি পদ থেকে বাদ দেওয়ায় রংমালা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আবদুল্লাহ আল মামুনকে কোম্পানীগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

 

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মাহবুবুর রশীদ মঞ্জু বলেন, নিয়মতান্ত্রিক ভাবে রংমালা মাদ্রাসার বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বাদ যায়। একপর্যায়ে রংমালার মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করা হয় আমাকে। আমি প্রথমে এ পদে যেতে অনীহা প্রকাশ করি। অনেকের অনুরোধ রক্ষা করতে আমি এ পদে আসলে, এতেই কাদের মির্জার গাত্রদাহ শুরু হয়।

 

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুদ্দিন আনোয়ার জানান, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির বিষয়টি গণমাধ্যম কর্মীদের কাছ থেকে জেনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত প্রদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

উল্লেখ্য, আ.লীগের দুটি গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে গত আট মাস ধরে কোম্পানীগঞ্জে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে । এ দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রায় ২ শতাধিক নেতাকর্মি আহত হয়েছে এবং একজন স্থানীয় সাংবাদিকসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *