নজর২৪ ডেস্ক- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনও নারীর ক্ষেত্রে তিনবার রিমান্ড চাওয়ার নজিরে নেই। চিত্রনায়িকা পরীমণির আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহীনুজ্জামান শাহীন মঙ্গলবার দিবাগত রাতে (১ সেপ্টেম্বর) বেসরকারি টেলিভিশন একাত্তরের টকশো ‘একাত্তর জার্নালে’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
আইনজীবী বলেন, ‘মাদক মামলায় ১৯ দিন যে রিমান্ডে আবেদন করা হয়েছিল, এরকম নজির আমরা সাধারণত দেখিনি। ১৯ দিনের মধ্যে তিন দফায় চিত্রনায়িকা পরীকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। যা খুবই অমানবিক এবং অবিচার। মাদক মামলায় এ ধরনের রিমান্ড নজিরে নেই।’
নারী ও শিশুর সাধারণত বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকে বলেও দাবি করেন অ্যাডভোকেট শাহীনুজ্জামান।
এছাড়া তাকে রিমান্ডে নিয়ে কি পাওয়া গেল এ বিষয়ে পুলিশের নথিতে কিছু উল্লেখ করা নেই বলে টকশোতে অংশ নিয়ে মন্তব্য করেন দৈনিক আজকের পত্রিকার উপদেষ্টা মামুন আবদুল্লাহ।
উল্লেখ্য, মাদক মামলায় গ্রেফতার চিত্রনায়িকা পরীমণি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আজ বুধবার সকাল ৯টা ৩৬ মিনিটে তাকে বহনকারী একটি গাড়ি কারাগার থেকে বের হয়ে যায়।
পরীমণি সাদা পোশাকে ছিলেন এবং তাকে বেশ উচ্ছল ও হাসিখুশি দেখা যায়। তাকে বহনকারী গাড়ি থেকে একটু বের হয়ে উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে সেলফি তুলতে দেখা যায়।
এর আগে মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কেএম ইমরুল কায়েশ শুনানি শেষে ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় পরীমণির জামিন আদেশ দেন। তিন কারণ বিবেচনায় পরীমণিকে জামিন দেওয়া হয়েছে। যেহেতু পরীমণি একজন চিত্রনায়িকা এবং একজন নারী।
তাছাড়া সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রীতিলতা নামক একটি চলচ্চিত্রে তার অভিনয়ের শিডিউল চলছে। এসব বিষয় বিবেচনায় তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল পর্যন্ত জামিনের আদেশ দেন আদালত।
গত ৪ আগস্ট রাতে পরীমনির বনানীর বাসায় অভিযান চালায় র্যাবের একটি দল। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, মদের বোতলসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য জব্দের দাবি করে বাহিনীটি।
পরের দিন পরীমনিকে আটকের কারণ জানানোর পাশাপাশি বনানী থানায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করে র্যাব। ওই দিনই এই অভিনেত্রীকে আদালতে তোলা হলে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। পরে আরও দুই দফায় মোট তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি।
রিমান্ড শেষে পরীমনিকে রাখা হয় কাশিমপুর কারাগারে।
