নজর২৪ ডেস্ক- ওয়ান ইলেভেনের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম ও প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।
শনিবার (২১ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক মানববন্ধন থেকে মঞ্চের নেতারা এই দাবি জানান।
‘ওয়ান ইলেভেনে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরতন্ শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্রের অন্যতম কুশীলব মাহফুজ আনাম-মতিউর রহমান গংদের বিচার দাবি এবং ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড পলাতক খুনী তারেক জিয়াকে দেশে এনে বিচারের রায় কার্যযকর করার দাবি’তে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আল মামুনের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন মঞ্চের উপদেষ্টা ভাস্কর রাশা, ঢাবি শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ।
সভাপতির বক্তব্যে আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ওয়ান ইলেভেনে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরতন্ শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল সেই সব সম্পাদকদের গ্রেফতারের দাবি করছি আমরা। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের সম্পাদক। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, আপনারা এদের মুখোশ উন্মোচন করুন। ওরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র বেছে নিয়েছিল, এখনো যেসব ষড়যন্ত্র করছে, সেই সব ষড়যন্ত্র দেশের মানুষের কাছে প্রকাশ করুন। এদেরকে আইনের আওতায় আনুন।
বুলবুল বলেন, আমরা বিশ্বাস করি বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার এবং রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সরকার অনেক শক্তিশালী। আপনারা জানেন মাহফুজ আনাম তার দোষ স্বীকার করেছিলেন। তিনি না বুঝে একটি কলাম ছাপিয়েছিলেন। সে সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। কিন্তু আমরা হতাশ হয়েছি। তাকে গ্রেফতার করা হয়নি, এখনো পর্যন্ত তাকে আইনের আওতায় আনা হয়নি।
রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন রেখে বুলবুল বলেন, মাহফুজ আনামরা কি রাষ্ট্রের চেয়ে শক্তিশালী, যদি তারা রাষ্ট্রের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয় তাহলে তাদের হাতে রাষ্ট্র তুলে দিন। রাষ্ট্রব্যবস্থার চেয়ে কোনো শক্তিশালী ব্যক্তি হতে পারে না। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা আপনাদেরকে দিয়ে রাখা হয়েছে। আজকে যারা সরকারে বসে আছেন, তাদের উচিত যারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িতদের রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়ে এ মানববন্ধনে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ সভাপতি বলেন, ‘গ্রেনেড হামলায় বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীরা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল বলে আমরা মনে করি। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী যার প্রত্যক্ষ মদদে এই গ্রেনেড হামলা হয়েছিল। তাকেও এই মামলার আসামি করা উচিত। কারণ খালেদা জিয়া নিজেই চেয়েছিল বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যা করার জন্য। কারণ তারা জানে, বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যা করলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ধ্বংস হয়ে যাবে। আজকে খুনী জিয়ার পুত্র তারেক রহমান দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আপনার মধ্যে যদি দেশপ্রেম থাকে তাহলে দেশে আসুন। রাজনীতি দিয়ে রাজনীতি মোকাবিলা করুন। বাংলার মানুষ আপনাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আপনাদের ষড়যন্ত্র মেনে নেবে না।’
সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ওয়ান ইলেভেন ও একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ষড়যনন্ত্রের নিন্দা জানাচ্ছি এর পাশাপাশি যে দুই সম্পাদক রয়েছে- মাহফুজ আনাম ও মতিউর রহমান, এদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি। আইনের আওতায় এনে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। ভবিষ্যতে কেউ যেন এ ধরনের ষড়যন্ত্র না করতে পারে সেই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।’
এ সময় বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে সেদিন যারা রাজনীতি থেকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র করেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কোন ব্যবস্থা নেয়নি। তখন যদি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হতো তাহলে পরবর্তীতে কেউ আর এমন ষড়যন্ত্র করার সাহস পেত না। কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে অন্যরা এটি দেখে উৎসাহিত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাহফুজ আনাম নিজে টকশোতে গিয়ে বলেছিলেন- তখনকার গোয়েন্দা সংস্থা তাকে যে তথ্য দিয়েছে তা যাচাই-বাছাই না করে তিনি তার পত্রিকা ডেইলি স্টারে প্রকাশ করেছিলেন। এটি তার ভুল হয়েছে, তিনি ভুল স্বীকার করেছেন। তার একটি ভুলের কারণে দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে দিনের পর দিন কারাবরণ করতে হয়েছে। একটি ভুলের কারণে হাজার হাজার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে জেলে যেতে হয়েছে, নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণকে অনেক ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে। সুতরাং মাহফুজ আনাম, আপনি আইনের মধ্যে। আপনার বিচার হতে হবে।’
