রাজারহাটে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ও দুর্নীতি তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি

আয়াতুল হোসেন জাহিদ, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: রাজারহাটের ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদে প্রায় ১মাসেও সহশ্রাধিক দুস্থ-অসহায় ব্যক্তির নামে বরাদ্দকৃত ঈদুল আযহার ভিজিএফের চাউল বিতরন করা হয়নি।

 

চেয়ারম্যান রবীন্দ্র নাথ কর্মকারের বিরুদ্ধে মেম্বারদের অনাস্থা প্রস্তাব ও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ যাচাই করতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারনে স্থবির হয়ে পরেছে উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম। ফলে নাগরিক সেবা পেতেও হয়রানীর শিকার হচ্ছেন সাধারণ জনগন।

 

জানা গেছে, ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা ইউনিয়নে ৫হাজার ২শ ৯৪জন দুস্থ মানুষের নামে ১০কেজি হারে ভিজিএফ চাউল বারাদ্দ করা হয়। এরমধ্যে ঈদের পূর্বে তালিকাভূক্তদের মধ্য থেকে ৩হাজার ৭শ জনের মাঝে চাউল বিতরন করা হয়। অবশিষ্ট চাউল দীর্ঘদিন পরে থাকার পর ইউপি সদস্যদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় গত মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফা বিতরনের উদ্যোগ গ্রহন করে ইউনিয়ন পরিষদ।

 

এতে অবশিষ্ট ১হাজার ৫শ ৯৪জনের মধ্যে মাত্র ৩২০জনকে ভিজিএফের চাউল দেয়া হয়। ফলে এখন পর্যন্ত ১হাজার ২৭৪জন দুস্থ ব্যক্তি ঈদের বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাউল পাননি। চাউল পরে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের খাদ্য গুদামে।

 

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে উক্ত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সাথে মেম্বারদের চলে আসা মতবিরোধ চরম আকার ধারন করেছে। এলজিএসপি, এডিপি, কাবিটা/কাবিখা, টিআর, ননওয়েজ, কর্মসৃজন, ভিজিএফ, ভিজিডি সহ বিভিন্ন খাতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার কাজে চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ কর্মকারের বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সহ বিভিন্ন দপ্তরে আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ৯জন ইউপি সদস্য।

 

এঘটনায় ৯ ইউপি সদস্য ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে তাকে অপসারনের দাবীতে অভিযোগ দাখিল করেন। পরে গত ৩১ জুলাই একই দাবীতে এলাকাবাসী ও ইউপি সদস্যগন রাজারহাট-তিস্তা সড়কে মানববন্ধন করেন। এরআগে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ইতিপূর্বে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রবীন্দ্র নাথ কর্মকার এক ইউপি সদস্যেকে বহিস্কার করেছিলেন।

 

অপরদিকে ইউপি সদস্যদের অনাস্থা প্রস্তাব ও অনিয়ম-দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. জোবাইদুল কবিরকে আহবায়ক করে তিন সদস্যদের তদন্ত কমিটি করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। অন্য দুই সদস্য হচ্ছেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মশিউর রহমান ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা শাহ আলম।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, তাদের দু’গ্রপের স্বার্থের দ্বন্দ্বের কারণে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সেবা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দ্বন্দ্বে ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।

 

ইউপি সদস্য সাদেকুল ইসলাম, মহুবর রহমান ও শহিদুল ইসলাম জানান, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রবীন্দ্র নাথ কর্মকার প্রায় ১বছর ধরে ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দ ও উন্নয়ন কর্মকান্ডে আমাদেরকে বঞ্চিত করে মনগড়াভাবে যা ইচ্ছে তাই করছেন। আমরা সংখ্যা গরিষ্ট ইউপি সদস্য তার অপসারন ও অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছি।

 

চেয়ারম্যান রবীন্দ্র নাথ কর্মকার জানান,মেম্বাররা লোকদেরকে আসতে দেয় না তাই মাল পরে আছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ও তদন্ত কমিটির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত চলছে আইনগতভাবে যা হবে তাই মেনে নেব।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরে তাসনিম বলেন, ৯ জন ইউপি সদস্যের অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *