নজর২৪ ডেস্ক- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় দুই দফায় ছয় দিনের রিমান্ড শেষে ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমনিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার (১৩ আগস্ট) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক গোলাম মোস্তফা।
অপরদিকে, তার আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ পরীমনির জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা মহানগর হাকিম ধীমান চন্দ্র মন্ডল তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এদিন পরীমনির পক্ষে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী, মজিবুর রহমানসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী জামিন চেয়ে শুনানি করেন।
তারা শুনানিতে বলেন, আসামির সামাজিক মান-মর্যাদা রক্ষা এবং একজন শিল্পী হিসেবে তার তাকে মানসিক উৎপীড়ন থেকে রক্ষার মানবিক তাগিদেই তাকে জামিনে মুক্ত করা মানবিক কারণেই আবশ্যক।
‘পরীমনির মুক্তির দাবিতে সমাজের মুক্ত চিন্তার প্রগতিশীলরা পর্ব সোচ্চার হচ্ছে। বিজ্ঞ আদালত, নিশ্চয়ই পত্র-পত্রিকা খুললে প্রতিদিন এসব সংবাদ ছাপা হচ্ছে, টেলিভিশনে প্রচার করা হচ্ছে। দেশের বিশিষ্ট জনেরা তার মুক্তি দাবি করছেন।’
শুনানিতে বলা হয়, ‘সে যদি এই মামলায় অপরাধী হয়, তাহলে তাকে মামলার বিচারের মধ্যে দিয়ে শাস্তি দেয়া যাবে। কিন্তু আপাতত যে কোনো শর্তে তার জামিন চাই বিজ্ঞ আদালত।’
আইনজীবী মজিবুর রহমান বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে ২০ বোতল মদ পাওয়া গেছে, মামলার বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন যে, মামলার বিষয়ে তদন্ত করে সাক্ষী পাওয়া যাচ্ছে। এটা একটি অনিশ্চিত বিষয়।
‘আমার মক্কেলের পাসপোর্ট রেখে জামিন দেয়া হোক। কারণ আইও বলেছেন, তার আবেদনে আসামি পালিয়ে যেতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘পরীমনি আদালতকে বলেছেন, আমার পাসপোর্ট জমা রাখলে আমি তো বিদেশে যেতে পারব না। বিশ্বময় অতিমারি সমস্যা চলছে, এর মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তার এই আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়।
‘সরকার যেভাবে বলবেন সেভাবে তদন্ত করার কথা, সেটা হলো আর্মস গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে।’
একই সঙ্গে পরীমনির বাসায় র্যাবের অভিযানকে আইনগত নয় বলে দাবি করেন ওই আইনজীবী। তিনি বলেন, ‘র্যাব আইনগতভাবে অপারেশন করে নাই, তারা আসামিকে গ্রেপ্তার করে উত্তরাতে তাদের অফিসে নিয়ে গেছে। তাকে থানায় হস্তান্তর না করে নিজেদের কাছে কয়েক ঘণ্টা রাখার পর তাকে হস্তান্তর করা হয়।’
এ বিষয়ে পরীমনি আদালতকে বলেছেন, ‘আমি কোনো খু’নের আসামি নই, আমাকে কেন এত ঘণ্টা আটক রাখা হলো, আপনি নিশ্চয়ই তা বিবেচনা করবেন, অবজার্ভ করবেন, জামিন দেবেন।’
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু আদালতকে বলেন, ‘আসামির বাসা থেকে প্রচুর দেশি-বিদেশি মাদক উদ্ধার করা হয়েছে, তিনি নায়িকার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে দেশের অনেক শিল্পপতি কোটিপতি ও সম্ভ্রান্ত ঘরের লোকদের ও তরুণ সমাজকে ডিজে পার্টির মাধ্যমে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাই মামলার তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করছি।’
শুনানিতে আবদুল্লাহ আবু বলেন, নায়িকা তো আরও আছে, তাদের বাসায় তো মদ পাওয়া যায়নি। তাদের তো পুলিশ ধরেনি। তাকে কেন গ্রেফতার করা হয়েছে? তার বাসায় মদ ছিল, সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেফতার করেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে যখন গ্রেফতার করতে যায় তখন তিনি আধা ঘণ্টা পর্যন্ত দরজা খোলেননি। এ সময় তার বাসায় থাকা মদের বোতল থেকে মদ ফেলে দিয়ে বোতল খালি করেন। বাসার যে খালি বোতল আছে সেগুলোতে মদ ছিল।
জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে তিনি আরও বলেন, পরীমণিকে শিল্পী সমিতি থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। আমি এত গভীরে যেতে চাই না। চিত্রনায়িকা ও সাধারণ মানুষ আইনের চোখে সকলেই সমান। তার বাসায় মদ পাওয়া গেছে।
জামিন বিরোধীতার এমন সব কারণ দেখান রাষ্টপক্ষের আইনজীবী। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে পরীমনির জামিন নাকচ করেন বিচারক।
