নজর২৪, ঢাকা- মাদকদ্রব্য আইনে দায়ের করা মামলায় ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমনির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। দ্বিতীয়বার রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ায় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদেন এই চিত্রনায়িকা। আদালতে বারবার তার আইনজীবীর দিকে তাকিয়ে শুনানি শুনছিলেন আর কাঁদছিলেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিমের আদালতে হাজির করা হয় পরীমনিকে। বিচারক দেবব্রত বিশ্বাস শুনানি শেষে দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
শুনানি শেষে ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়িকা শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনি ও তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুকে ফের দুদিন করে রিমান্ডে পাঠায় আদালত।
আদালতে পরীমনির মামলার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মশিউর রহমান, নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীসহ বেশ কয়েকজন। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন মুখ্য মহানগর দায়রা আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী আবদুল্লাহ আবু।
আদেশ শোনার পর আদালত কক্ষেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরীমনি। এরপর আদালত কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় মাস্ক খুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, ‘‘আমি নির্দোষ, আমাকে ইচ্ছা করে ফাঁসানো হয়েছে। আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আপনারা মিডিয়া কী করছেন? সব তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছেন।’
এর আগে, দুপুর ১২টার কিছুক্ষণ পর একটি মাইক্রোবাসে করে পরীমনিকে আদালতে নিয়ে আসে সিআইডি। গাড়ি থেকে নামার পরেই তাকে ঘিরে ধরে পুলিশ। গত ৪ আগস্ট গ্রেপ্তারের সময় পরীমনি যে পোশাকে ছিলেন সেই পোশাক ও মাস্কেই আদালতে দেখা যায় তাকে।
আলোচিত এই অভিনেত্রীকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় জমান শত শত মানুষ। জমায়েত নিয়ন্ত্রণে আদালত চত্বরে মোতায়েন করা হয় বাড়তি পুলিশ। নিরাপত্তার স্বার্থে সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকদেরও এজলাস থেকে বের করে দেয়া হয়।
এর আগে, বুধবার (৪ আগস্ট) রাতে প্রায় ৪ ঘণ্টার অভিযান শেষে বনানীর বাসা থেকে পরীমণি ও তার সহযোগীকে আটক করে র্যাব। তার বাসা থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। আটকের পর তাদের নেওয়া হয় র্যাবের সদর দফতরে। বুধবার রাতভর সেখানেই থাকতে হয় পরীমণিকে। বৃহস্পতিবার র্যাব-১ বাদী হয়ে মাদক আইনে পরীমণির বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলা দায়েরের পর সেদিনই তাকে আদালতে নেওয়া হয়। সেই মামলায় তাকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।
