নজর২৪ ডেস্ক- আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্যপদ থেকে সম্প্রতি অব্যাহতি পাওয়া আলোচিত হেলেনা জাহাঙ্গীর আদালতে নিজেকে নিরপরাধ বলে দাবি করেছেন। এ সময় তিনি নিজেকে সরকার ও আওয়ামী লীগের লোক বলেও দাবি করেন।
শুক্রবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর গুলশান থানার মামলায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করে পুলিশ।
সে মামলার শুনানিতে ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী তার কাছে জানতে চান, ‘আপনার কিছু বলার আছে?’
জবাবে হেলেনা জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি সরকারের লোক। আমি আওয়ামী লীগের লোক। আমার পদ এখনও যায়নি। আমাকে কোনো শোকজ করা হয়নি। আমি কোনো নোটিশ পাইনি। আমার জীবনে আমি ফেসবুকে কোনো দিন সরকারের বিপক্ষে লিখি নাই। আমি সরকারের লোক। আওয়ামী লীগের লোক। আমি আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে কাজ করি।’
হেলেনা আরও বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করি। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে প্রায় ২৫টা দেশ সফর করেছি। আমি কীভাবে সরকারের বিপক্ষে কথা বলব। কোথাও কোনো প্রমাণ নেই আমার ফেসবুকে। কোনো পেজে। বরং কেউ যদি কথা বলে থাকে সেটার প্রতিবাদে আমি দাঁড়িয়েছি। সেই ভিডিও আছে আমার ফেসবুকে। সেটার ভিডিও আছে আমার ফেসবুকে।’
তিনি বলেন, ‘তারা বিভিন্ন দলের হয়ে আমেরিকা থেকে কানাডা থেকে সরকারের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। তাদের বিপক্ষে আমি কথা বলেছি। এগুলোর প্রমাণ আমার কাছে আছে।’
তবে এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে একটি কল রেকর্ড বিচারককে দেয়া হয়। যেখানে হেলেনা জাহাঙ্গীরের কণ্ঠ শোনা যায়।
ভিডিওতে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে বলতে শোনা গিয়েছে তিনি প্রধানমন্ত্রী ছাড়া অন্য কাউকে গুনে চলেন না। ‘কোনো মন্ত্রীকে গোনার সময় নাই।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আবু আদালতে হেলেনা জাহাঙ্গীর বিরুদ্ধে করা ডিজিটাল মামলায় তার রিমান্ড চেয়ে বলেন, ‘আসামি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর কথা ছড়িয়েছেন। তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। মানসম্মান ক্ষুণ্ন করেছেন। তিনি সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছেন। এইগুলো তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে করেছেন।’
আবদুল্লাহ আবু কোর্টে বলেন, ‘যেহেতু তিনি সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করেছেন, তাই তাকে রিমান্ডে নিয়ে আর কারা জড়িত আছে তাদের খুঁজে বের করতে হবে। এখানে সে একা না, তার সাথে অন্য কেউ থাকতে পারে।’
এ সময় হেলেনা জাহাঙ্গীরের পক্ষে আইনজীবী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এজাহার দেখলে ২৫, ২৯ ৩২ ধারায় যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে কোথাও কোনো উল্লেখ নেই, কখন কোথায় কীভাবে কার বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য দেয়া হয়েছে। তার কোনো উল্লেখ নেই। আসামি একজন সিআইপি, এই মামলায় রিমান্ড কী দরকার? রিমান্ডের কোনো যুক্তি নেই।’
তিনি বলেন, ‘মামলায় বলা হয়েছে তিনি মন্ত্রীদের মানহানি করেছেন। তবে কোনো মন্ত্রী বলে নাই যে এই হেলেনা জাহাঙ্গীরের বক্তব্যে তার মানহানি হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক পক্ষ থেকে বিরূপ প্রতিক্রিয়া আসে নাই। আমি বলতে চাই তার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি হানড্রেড পার্সেন্ট অনুগত্য রয়েছে। এখানে রাষ্ট্রদ্রোহিতার কোনো কিছুই হয়নি।’
শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মামলার পুরো এজাহার দেখেছি। পুরো এজাহারের মধ্যে হেলেনা জাঙ্গীরের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ সুস্পষ্ট নেই।’
এ সময় বিচারক বলেন, মামলার ফরোয়ার্ডিংয়ে বলা হয়েছে, ‘এই আসামি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মন্ত্রী, এমপি ও দেশের সম্মানিত নাগরিকদের বিরুদ্ধে কটূক্তি করে সরকারের ভাবমূর্তি ও দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন।’
ফরোয়ার্ডিংয়ে আরও বলা হয়েছে, হেলেনা জাহাঙ্গীর সরকারবিরোধী কার্যকলাপ ও পরিকল্পনায় যুক্ত। এর সঙ্গে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা মহল জড়িত আছে, যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। এই গোষ্ঠী কারা তা জানতে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ।
