তালা ভেঙে রাহমানিয়া মাদ্রাসায় জেলা প্রশাসন, ছবি তুলতে বাধা

নজর২৪ ডেস্ক- শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি বিদ্যাপিঠ জামিআ রাহমানিয়া আরাবিয়ার ‘অবৈধ দখল মুক্ত’ করতে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন।

 

বেলা ১২টার দিকে পুলিশের উপস্থিতে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাদরাসার ভেতরে প্রবেশ করেন। এসময় মাদরাসার বিভিন্ন গেট ও দরজার তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করা হয়। তবে এ অভিযানের ছবি তুলতে বাধা দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ।

 

সূত্র জানায়, উচ্ছেদ অভিযানে খবর পেয়ে আগেই মাদ্রাসা ছেড়েছেন মাওলানা মাহফুজুল হক। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসার আগে না সরলে তাদের মুখোমুখি হতে হতো মাওলানা মাহফুজুল হককে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে তিনি আগেই মাদ্রাসা ছেড়েছেন।

 

একই সঙ্গে আগেভাগে বেরিয়ে গিয়ে নিজেদের ‘ভিকটিম’ হিসেবে উপস্থাপন করারও কৌশল নিয়েছেন বলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন।

 

এদিন সকালে বর্তমান মুহতামিম প্রয়াত আজিজুল হকের ছেলে মাওলানা মাহফুজুল হক মাদ্রাসার মূলফটকে তালা দিয়ে বেরিয়ে যান। এ সময় মাদ্রাসার চাবি কওমি শিক্ষা বোর্ড আল হাইআতুল উলিয়ার চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদুল হাসানের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এদিন বেলা ১২ টা পর্যন্ত মাওলানা মাহমুদুল হাসানের কাছে কোনো চাবি পৌঁছেনি বলে জানা গেছে।

 

এদিকে ওয়াকফ সোমবার বিকালে সংবাদ সম্মেলন ঢেকেছে ওয়াকফ অ্যাস্টেট অনুমোদিত জামি’আ রাহমানিয়া আরাবিয়া সাত মসজিদ মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি। ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাদ্রাসা বুঝে পাওয়ার পর সার্বিক বিষয়ে কথা বলবেন তারা।

 

প্রসঙ্গত, মোহাম্মদপুরের জামি’আ রাহমানিয়া আরাবিয়া শীর্ষস্থানীয় একটি কওমি মাদ্রাসা। ১৯৮৮ সালে ওয়াকফ সম্পত্তিতে গড়ে ওঠা এই মাদ্রাসাটি ২০০১ সালে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় আল্লামা আজিজুল হকের পরিবার। তার ছেলে মাহফুজুল হক ও মামুনুল হকরা পরে হেফাজতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।

 

ওয়াকফ প্রশাসনে নিবন্ধিত মাদ্রাসাটি থেকে ওই সময়ের ৩৬ জন শিক্ষককে বের করে দেওয়া হয়। সেই সময় থেকে মাদ্রাসাটির পরিচালনার দায়িত্ব ফিরে পেতে আইনি লড়াই চালিয়ে যায় ওয়াকফ অ্যাস্টেট পরিচালনা কমিটি। আদালতের রায়, ওয়াকফ প্রশাসনের পক্ষে আদেশ থাকার পরও এতদিন মাহফুজুল হক ও মামুনুল হকরা প্রতিষ্ঠানটি নিয়ন্ত্রণে রাখে।

 

সম্প্রতি হেফাজেতের তাণ্ডব ও মামুনুল হকের রিসোর্ট কাণ্ডের পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *