নজর২৪ ডেস্ক- ২০ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয়ার আগে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামীর নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বলে তথ্য পেয়েছেন জোটের সমন্বয়ক বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান। জোট ত্যাগের ঘোষণা দেয়া জমিয়ত নেতা বাহাউদ্দিন জাকারিয়াও এই বৈঠকের কথা স্বীকার করেছেন।
তবে ওই বৈঠকের সঙ্গে তার জোট ছাড়ার ঘোষণার কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন জমিয়তের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বাহাউদ্দিন জাকারিয়া। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কারও নির্দেশে জোট ছাড়িনি, এই হেডলাইনে নিউজ করেন।’
বুধবার দুপুরে জাকারিয়া হঠাৎ সংবাদ সম্মেলনে আসেন দলের শীর্ষ নেতাদেরকে নিয়ে। তার দলের সাংগঠনিক শক্তি বা জনভিত্তি এমন কিছু নেই। বিএনপি এসব দলকে জোটে নিয়ে কতটা লাভবান হয়েছে, এ নিয়ে বিতর্ক সেই শুরু থেকেই।
তার পরেও কোনো শরিকের বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ছেড়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে আলোচিত খবর হয়। আর জমিয়ত এই সিদ্ধান্ত জানানোর পর জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খানের সংবাদ সম্মেলন ডাকাও প্রমাণ হয়, ঘোষণায় আলোড়ন হয়েছে জোটে।
তিনি সরাসরি কোনো অভিযোগ না করলেও জমিয়তের এই সিদ্ধান্তে সরকারের চাপের বিষয়টি ইঙ্গিত দেন। বলেন, ‘শুনেছি, আজ তারা স্বরাষ্টমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন। তার সঙ্গে দেখা করে এসে এই সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এখন আপনারা অনুমান করে নেন এখন।’
আপনি এই জোট ছাড়ার সিদ্ধান্তের পেছনে সরকারের হাত দেখছেন?- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না আমি তা বলছি না। আমি একটা ইনফরমেশন দিলাম আরকি।’
তবে জমিয়ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কিছু তাদের জানায়নি বলেও জানান নজরুল ইসলাম খান।
জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয়া জমিয়তের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বাহাউদ্দিন জাকারিয়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
২০ দল ছাড়ার ঘোষণায় ওই বৈঠকের কী ভূমিকা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দেখা করা না করা সেটা বিষয় না। তবে আমরা কারও নির্দেশে জোট ছাড়িনি। আমরা কারও পরামর্শে এই সিদ্ধান্ত নেইনি। আমাদের দলের সিনিয়ররা আলোচনা করে তৃণমূল নেতাদের দাবির প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
‘তারা শরিকদের মূল্যায়ন করে না।‘
কী ধরনের মূল্যায়ন আপনারা চান?- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা কারও পরামর্শ নেয় না। একতরফা সিদ্ধান্ত নেয়। তাছাড়া এত আলেম গ্রেপ্তার হলেও তারা প্রতিবাদ করেনি। দুঃসময়ে পাশে না থাকলে কিসের জোট?’
এর আগে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ একটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় রাজনৈতিক দল। দেশের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি, ধর্মীয় কৃষ্টি-কালচার ও স্বকীয়তা সংরক্ষণে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সােনালী ইতিহাস রয়েছে। দেশ ও জাতির যে কোন ক্রান্তিকালে জমিয়ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। দেশের স্বাধীনতা-স্বার্বভৌম রক্ষা, গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ আল্লাহর জমিনে আল্লাহর নেজাম প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জমিয়ত নিয়ােজিত। এ ধারাবাহিকতায় বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের আজকের সভায় ব্যাপক আলােচনা পর্যালােচান্তে সর্বসম্মতিক্রমে নিম্নোক্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
বিশেষ এক পরিস্থিতিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে নিবাচনী ঐক্য গড়ে তােলে। এ ধারাবহিকতায় ঐক্যবদ্ধভাবে কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু অত্যন্ত দুখের সাথে বলতে হয় যে, জোটের শরিক দলের যথাযথ মূল্যায়ন না করা, সম্প্রতি শরিক দলগুলাের সাথে পরামর্শ করে মতামত না নিয়ে তিনটি আসনের উপনির্বাচন এককভাবে বর্জনের ঘােষণা করা, জোটের কোন কার্যক্রম না থাকা, বিএনপি মহাসচিবের শরীয়া আইনে বিশ্বাসী না হওয়ার বক্তব্য দেয়া, দেশব্যাপী আলেম উলামাদের (জেলজুলুমের প্রতিবাদে কার্যকর কোন ভূমিকা না রাখা এবং জোটের শীর্ষ নেতা জমিয়ত মহা-সচিব আল্লামা নূর হােসাইন কাসেমী রহ.-এর ইন্তিকালের পর বিএনপির পক্ষ থেকে সমবেদনা জ্ঞাপন না করা ও জানাজায় অংশগ্রহণ না করায় জমিয়তের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। তাই জমিয়ত মনে করে বিশদলীয় জোট থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করাই জমিয়তের জন্য কল্যাণকর। আজ থেকে জমিয়ত জোটের কোন কার্যক্রমে সক্রিয় থাকবেনা।
