রোববার ঢাকায় আসবে ‘টাঙ্গাইলের বস’!

অন্তু দাস হৃদয়, স্টাফ রিপোর্টার- আসন্ন ঈদুল আযহায় কোরবানির হাট কাঁপাতে ‘টাঙ্গাইলের বস’ যাচ্ছে রাজধানী ঢাকায়। ন্যায্যমূল্য পেতে টাঙ্গাইলের বস রাজধানী ঢাকার গাবতলী, বাইপাইল ও কমলাপুর হাট ভ্রমণ করবে।

 

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ছিলিমপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের কৃষক মো. শফিকুল ইসলামের গোয়ালে জন্ম নেওয়া ‘টাঙ্গাইলের বস’ নামের ষাঁড়টির ওজন প্রায় ৪০ মণ। কুচকুঁচে কালো রঙের নাদুস-নুদুস প্রায় ৯ ফুট লম্বা ও ৬ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট ষাড়টির বুকের (সিনার) ঘের প্রায় ৭ ফুট।

 

ষাঁড়টির মালিক শফিকুল ইসলাম জানান, ‘টাঙ্গাইলের বস’ নামের ষাড়টি তার গোয়ালে সাড়ে চার বছর আগে জন্ম নেয়। ষাঁড়টির মা (গাভি) ইতোপূর্বে আরও তিনটি ষাঁড়ের জন্ম দিয়েছে, সেগুলোও কোরবানির ঈদে বিক্রি করে তিনি বেশ লাভবান হয়েছেন। গাভিটি আবার গর্ভবতী হয়েছে। নিরোগ বাহামা শংকর জাতের ষাঁড় টাঙ্গাইলের বসকে বাড়ি থেকে কেউ কিনে নিলে তিনি ১০ লাখ টাকায় বিক্রির করবেন। হাটে উঠালে বাজার অনুযায়ী দামেই ষাঁড়টি বিক্রি করবেন তিনি, তবে তা অবশ্যই ১০ লাখের নিচে নয়।

 

তিনি জানান, সদর উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিস থেকে ষাঁড়ের ছবি ও বিবরণ নিয়ে অনলাইনে ছবিটি আপলোড করলেও তার পরিচয় সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। প্রতিদিনই স্থানীয় লোকজন ষাঁড়টি দেখতে তার বাড়িতে ভিড় করলেও এখন পর্যন্ত কেউ ‘টাঙ্গাইলের বস’কে কিনতে আসেনি। বাধ্য হয়ে তিনি টাঙ্গাইলের বসকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী রোববার(১৮ জুলাই) ষাঁড়টিকে তিনি ঢাকার গাবতলী হাটে উঠানোর চেষ্টা করবেন।

 

এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক কৃষক শফিকুল ইসলাম আরো জানান, তার গোয়ালে এখনও ১৩টি গরু রয়েছে। এরমধ্যে টাঙ্গাইলের বসসহ ৪টি ষাঁড়, ২টি বকনা বাছুর, ১টি ষাঁড় বাছুর এবং ৬টি গাভি রয়েছে। টাঙ্গাইলের বসকে তিনি খর, ভুষি, পায়রা, ছোলা, তরল গুড় খাইয়ে বড় করেছেন।

 

নিয়মিত শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করিয়ে শুকনো কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দেন। থাকার গোয়ালে ফ্যান লাগিয়ে দিয়েছেন। পরিবারের অন্য সদস্যদের যেভাবে যতœ নেওয়া হয়, একইভাবে গরুরও যতœ নেন তিনি।

 

ছিলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নং ওয়ার্ডের সদস্য জামিল মোহাম্মদ তফিজ বলেন, শফিকুল ইসলাম পেশায় একজন কৃষক। পৈত্রিক জমি চাষ করে তার সংসার চলে। পারিবারিকভাবেই তারা গরু লালন-পালন করে থাকেন। তার গোয়ালের ‘টাঙ্গাইলের বস’ নামের ষাঁড়টি দেখতে স্থানীয় লোকজন ভিড় করছে। ষাঁড়টি যথোপযুক্ত দাম পেলে এলাকায়ই বিক্রির কথা রয়েছে।

 

ছিলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সাদেক আলী বলেন, কৃষক মো. শফিকুল ইসলামের গোয়ালে এতবড় ষাঁড় গরু হয়েছে সেটি তিনি জানতেন না। জানতে পেরে তিনি উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে জানিয়েছেন, পরে তারা ষাঁড়টি দেখে ছবি তুলে অনলাইনে আপলোড দিয়েছে।

 

শফিকুলের এ সাফল্যকে স্বাগত জানিয়ে তিনি আরো বলেন, তার অনুকরণে আরও অনেকেই ষাঁড় লালন-পালনে উৎসাহিত হবে।

 

এ বিষয়ে সদর উপজেলার প্রাণী সম্পদ অফিসের উপ-সহকারি প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, ইউনিয়নের ‘টাঙ্গাইলের বস’ নামের ষাঁড়টিই বড়। দেশীয় খাবারে ষাঁড়টি লালন পালন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *