নজর২৪ ডেস্ক- চট্টগ্রামে বিনা অপরাধে তিন বছর কারাভোগ করে মুক্তি পাওয়া মিনুর রহস্যজনক মৃত্যুর পর তার বড় ছেলে ইয়াছিন (১২) নিখোঁজ হয়েছেন। মঙ্গলবার (৬ জুলাই) সকাল থেকে তার কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ইয়াছিন কয়েক বছর ধরে নগরীর ষোলশহর রেলস্টেশনে একটি দোকানে কাজ করতো।
নিখোঁজের পর থেকে ইয়াসিনকে খোঁজে বেড়াচ্ছেন মিনুর ভাই মো. রুবেল। তিনি সর্বশেষ মঙ্গলবার সকালে ভাগ্নের সন্ধানে সেই দোকানে যান। কিন্তু দোকান ভেঙে ফেলায় খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এর আগে ২৮ জুন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের পর ‘অজ্ঞাত’ ব্যক্তি হিসেবে মিনুকে দাফন করা হয়। তবে ট্রাক চাপায় তার মারা যাওয়াকে অস্বাভাবিক দাবি করেন তার আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ।
ইয়াসিন নিখোঁজের ব্যাপারে মো. রুবেল বলেন, মিনু আপা মৃত্যুর খবর জানার পর থেকে তাঁর বড় ছেলে ইয়াছিনকেও খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রথমে শুনেছিলাম দোকানের মালিকের সঙ্গে বাঁশখালী গিয়েছিল। কিন্তু ইয়াছিন যে দোকানে চাকরি করতো সেটি এখন নেই। বিষয়টি পুলিশকে জানোনা হয়েছে।
মিনুর মৃত্যু নিয়েও তিনি মুখ খোলেন। রুবেল বলেন, মিনুর মৃত্যুতে রহস্য থাকতে পারে। যারা মিনুকে কারাগারে নিয়ে গেছেন, তারা শক্তিশালী। কেউ যদি মিনুকে হত্যা করে থাকে তাকে বিচারের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
এদিকে বিনা দোষে কারাগারে থাকা মিনু আক্তারের মৃত্যু নিছক সড়ক দুর্ঘটনা নাকি হত্যা তা তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন তাকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেয়া আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ।
তিনি বলেন, ‘কারাগার থেকে মুক্তির পর তাকে সুস্থ স্বাভাবিকই মনে হয়েছে। পুলিশ বলছে ভোর চারটায় দুর্ঘটনা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সেসময় মানুষজন ছিল না রাস্তায়। পরিবার কেনো তার খোঁজ নেয়নি, এত রাতে ওই জায়গায় কীভাবে গেলেন তিনি?’
তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা হলো বিনাদোষে মিনুর কারাগারে থাকার বিষয়টি দেশের সব গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছে। ওই থানার কেউ কি খবরের কাগজ পড়ে না? এটা তো চট্টগ্রামের বার্নিং ইস্যু ছিল, মিনুকে দেখলেই তো যে কারও চেনার কথা। তার মৃত্যুর কথা কাউকে না জানিয়ে কেনো গোপনে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামকে দিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে দাফন করা হলো? পুরো বিষয়টি অন্য সবার মতো আমার কাছে রহস্যজনক মনে হয়। এসব প্রশ্নের উত্তর বের করার জন্য একটা তদন্ত কমিটি করা প্রয়োজন।’
