করোনা রোগী মোটরসাইকেল নিয়ে সড়কে, চেকপোস্টে যা করলেন ম্যাজিস্ট্রেট

নজর২৪ ডেস্ক- অক্সিমিটার কিনতে ঘর থেকে বাইরে বের হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মুখোমুখি হয়েছেন করোনায় আক্রান্ত এক ব্যাংক কর্মকর্তা। পরে তাকে ঘটনাস্থলেই অপেক্ষমাণ রেখে অক্সিমিটার কিনে এনে দেওয়া হয় এবং সেইসঙ্গে ঘর থেকে বের না হয়ে পরবর্তী যে কোনো প্রয়োজনে ৩৩৩ এ নয়তো ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন করে জানানোর জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়।

 

শুক্রবার (০২ জুলাই) দুপুরে বরিশাল নগরের নথুল্লাবাদ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত চলমান অবস্থায় এ ঘটনা ঘটে।

 

প্রতক্ষদর্শী ও স্থানীয় গণমাধ্যমের ফটো সাংবাদিক নুরুল আনি রাসেল জানান, ঘটনার সময় সেখানে পুলিশের চেকপোস্টের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলমান ছিল। তখন এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে নগরের কাশিপুরের দিক থেকে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালের দিকে যাচ্ছিলেন।

 

তিনি জানান, এসময় মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে চালকের পরিচয় ও তার ঘর থেকে বের হওয়ার কারণ জানতে চান জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুশফিকুর রহমান। এসময় ওই ব্যক্তি নিজেকে কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা ও নগরের সাগরদী এলাকার রুপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা বলে দাবি করেন।

 

পাশাপাশি তিনি করোনায় আক্রান্ত বলে নিজেকে দাবি করে জানান, লকডাউনের কারণে স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তিনি বাসায় একা রয়েছেন, আশপাশে কোনো আত্মীয়স্বজনও নেই। এ কারণে অক্সিমিটার কিনতে বাধ্য হয়ে নিজেই বাইরে বের হয়েছেন।

 

এসময় মেহেদী হাসান নামে ওই ব্যাংক কর্মকর্তাকে হেল্পলাইনে ফোন দিয়ে সাহায্য না চাওয়ার কারণও জানতে চাওয়া হয়।

 

পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওই ব্যক্তিকে সেখানে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করিয়ে নিজের গাড়ি পাঠিয়ে অক্সিমিটার কিনে তাকে বুঝিয়ে দিয়ে বাসায় পাঠান।

 

নির্বাহী ম‌্যাজিস্ট্রেট মুশফিকুর জানান, মেহেদি নিজেই বাইক নিয়ে বের হন। নথুল্লাবাদ চেকপোস্টে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দাঁড় করালে জানতে পারি তিনি করোনা পজিটিভ। পরে গাড়ি পাঠিয়ে তার জন‌্য অক্সিমিটার কিনে এনে তাকে দিই।

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমি তাকে আমার ফোন নম্বর দিয়েছি। যেকোনো ধরনের সহযোগিতার জন‌্য বলেছি আমাকে কল করতে।’

 

অক্সিমিটার হাতে পেয়েই ওই ব্যাংক কর্মকর্তা বাসায় ফিরে যান বলেও জানান প্রশাসনের এই কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *