মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ তিস্তা নদীর ভাঙ্গন কবলিত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার বাধ নির্মাণে কেউ এগিয়ে না আসলেও অবশেষে নিজ অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে সেই বাধ নির্মাণ করেছে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা মইশামুরী গ্রামের বাসিন্দারা।
জানা গেছে, গত বন্যায় কাকিনা মইশামুরীর চারমাথা থেকে মুক্তিযোদ্ধা বিদ্যালয়ের দিকে যাওয়ার রাস্তাটি তিস্তা নদীর পানি প্রবাহে ভেঙে যায়। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় ফসলের। জরুরী প্রয়োজনে হাটবাজার ও উপজেলা সদরে যেতে কয়েকশত পরিবার পড়ে চরম অসুবিধা। রাস্তাটি নির্মাণে জনপ্রতিনিধিদের দাড়ে দাড়ে ঘুরেও কোন সারা পায়নি এলাকাবাসী। অবশেষে গ্রামবাসী একজোট হয়ে নিজ অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে এই এক কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করেন। ফলে কিছুটা হলেও তিস্তা নদীর শক্তিশালী স্রোত নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে এলাকাবাসী।
তবে তিস্তা নদী তীরের বাসিন্দারা আশঙ্কা করছে সরকারিভাবে রাস্তাটি আরো উচু না করলে বা শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণে দ্রুত কার্যকর স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের মইশামুড়ি গ্রামাটি মানচিত্র থেকে অদৃশ্য হয়ে যাবে। এই অঞ্চলগুলিতে তিস্তা নদীর ভাঙনের কারণে বহু লোক জমি ও ফসল হারিয়েছে। তারা শরণার্থী হয়ে গেছে এবং অমানবিক জীবন যাপন করছে।
মইশামুরী গ্রামের সেজাব আলী বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের চেয়ে আরও খারাপ অবস্থায় আছি। সরকার রোহিঙ্গাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে, কিন্তু আমাদের চলাচলের রাস্তায় নেই। আমার সব শেষ; আমার কয়েক একর জমি ছিল, রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ার কারণে তা অনাবাদি হয়ে গেছে। ফলে আমি কঠিন কষ্টের মাঝে দিনে রাত কাটাচ্ছি।
মইশামুরী গ্রামের হবিবর রহমান (হবি)সহ স্থানীয়রা জানান, প্রাথমিক ভাবে আমরা গ্রামবাসীর কাছ থেকে অর্থ নিয়ে সরকারী রাস্তাটি হালকা বাঁধ নির্মাণ করেছি। তিস্তা নদীর তীরে সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণে বিলম্ব হওয়ায় আমি গ্রামের মানুষকে একত্রিত করে রাস্তা মেরামত করে মারাত্মক ক্ষয় রোধ করার চেষ্টা করছি। তবে সরকারিভাবে আরও উন্নত করে রাস্তাটি বাঁধ নির্মাণ হলে এলাকাবাসী উপকৃত হবে। তাদের অর্থ আর ব্যয় করতে হবে না। এই আশা নিয়ে এলাকাবাসীর বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা।
এ ব্যাপারে কাকিনা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য শফিকুল ইসলাম সফির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সদস্য হিসাবে আমার তেমন কিছু করার নেই। স্থানীয় কয়েকশ লোক রাস্তাটি তৈরি করতে তাদের অর্থ ব্যয় করেছে।
কাকিনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের কাছে ফোন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছে এবিষয়ে কেউ আসেনি এবং আমি এ সম্পর্কে কিছুই জানিনা।
কালীগঞ্জ উপজেলাত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফেরদৌস আহমেদ বলেন, “বিষয়টি আমরা জেনেছি। খুব দ্রুত মাননীয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের সাথে কথা বলে আমরা বরাদ্দ দেবার চেষ্টা করব।
