নজর২৪ ডেস্ক- তারেক রহমানকে নিয়ে কথা বললে কিছু হয়ে গেলে তারা দায়ী থাকবেন না বলে ছাত্রদল নেতা প্রকাশ্যে যে হুমকি দিয়েছেন, তাতে কিছু মনে করেননি গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক সেমিনারে বক্তব্য দেয়ার সময় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ওমর ফারুক কাউসার বাদানুবাদে জড়ান গত কয়েক বছরে বিএনপির কাছাকাছি আসা এই বুদ্ধিজীবীর সঙ্গে। হুমকি দিয়ে তিনি বেরিয়ে যান সেখান থেকে।
এর পর জাফরুল্লাহ আবার বক্তব্য শুরু করেন, কিন্তু এই প্রসঙ্গটি নিয়ে কিছুই বলেননি।
সেমিনার শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় প্রেসক্লাবের বারান্দায় গণমাধ্যম জাফরুল্লাহর প্রতিক্রিয়া নেয়ার চেষ্টা করে। তিনি হাঁটতে হাঁটতে কথা বলেন অল্পক্ষণ।
আজকের ঘটনাটা নিয়ে কিছু বলবেন?- এমন প্রশ্নে জাফরুল্লাহ বলেন, ‘ওই ছেলেটা তার নেতা (তারেক রহমান) সর্ম্পকে বক্তব্য দিতে মানা করেছে। তেমন কিছু বলেনি তো।’
আপনার মতো একজন মানুষের সঙ্গে এই ধরনের আচরণ কি ঠিক?- এমন প্রশ্নে তিনি আবার বলেন, ‘না, এটাতে আমি কিছু মনে করিনি। সে তার নেতা সম্পর্কে কথা বলতে না করেছে।’
আর কথা না বাড়িয়ে গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ওই স্থান ত্যাগ করেন।
এর আগে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে অ্যাডুকেশন রিফর্ম ইনশিয়েটিভ (ইআরআই) আয়োজিত ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী-শিক্ষায় প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি এবং করোনাকালীন শিক্ষা বাজেট: ২০২১-২০২২’ শীর্ষক সেমিনারে এ হুমকির ঘটনা ঘটে।
সভায় বিএনপিকে নিয়ে তীব্র মন্তব্য করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিএনপির ক্ষমতায় আসারই ইচ্ছে নেই। ক্ষমতায় আসতে হলে ইচ্ছে-আগ্রহ থাকতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে পরিকল্পনা করতে হবে যে কোন কোন জায়গায় পরিবর্তন আনতে হবে। সেগুলো নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমি বারবার বলেছি- তারেক তুমি দুই বছর চুপচাপ বসে থাকো। পারলে বিলেতে (বিদেশ) লেখাপড়ায় যুক্ত হয়ে যাও, সেখানে বহুভাবে লেখাপড়া হয়।
জাফরুল্লাহর এমন বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষিপ্ত হয়ে যান সভায় উপস্থিত থাকা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতারা। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ওমর ফারুক কাওছার সালাম ডা. জাফরুল্লাহকে থামিয়ে দিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি বিএনপির কে? আপনি বিএনপি নিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলেন?
জবাবে জাফরুল্লাহ বলেন, না কেউ না। এটা তো গণতন্ত্রে আমার বলার অধিকার আছে। তখন ছাত্রদলের ওই নেতা বলেন, না। আপনি অন্যদের নিয়ে বলুন। আমাদের নেতা সম্পর্কে বলছেন, আপনি তো বিএনপির কেউ না।
তখন ওমর ফারুক কাওছার বলেন, না না আমরা অবশ্যই বুঝি। আপনি আপনারটা বুঝেন, আমরা আমাদেরটা বুঝি। আপনি আমাদের নেতাদের নিয়ে কখনো কথা বলবেন না। কখনোই কথা বলবেন না। আর যদি কখনো কথা বলেন, কিছু হলে আমরা দায়ী থাকব না। আপনি জয়কে (সজিব ওয়াজেদ জয়) নিয়ে বলেন, শেখ হাসিনাকে (প্রধানমন্ত্রী) নিয়ে বলেন। এসব কথা বলার পর ছাত্রদলের নেতারা চলে যান।
পরে ওমর ফারুক কাওছারের প্রসঙ্গ টেনে ডা. জাফরুল্লাহ তার বক্তব্যে বলেন, ওখানে (আওয়ামী লীগে) তারা করছে এক ব্যক্তির বন্দনা। এখানেও কিছুক্ষণ আগে যে ঘটনা ঘটল, সেটাতেও এক ব্যক্তির বন্দনা। এভাবে এক ব্যক্তির বন্দনা জাতিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করা যায় না, বিশেষ করে আমার মতো লোককে ভয় দেখিয়ে কণ্ঠ রোধ করা যায় না। আমি যেটা ভালো মনে করব, জাতির জন্য যা প্রয়োজন মনে করব, আমি বলেই যাব। সেটা কারো পছন্দ হোক বা নাই হোক।
