আমি কোনো অপরাধ করিনি, আমার চাকরি যাবে কেন: ত্ব-হার বন্ধু সিয়াম

নজর২৪ ডেস্ক- আলোচিত ধর্মীও বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানের বাল্যবন্ধু সিয়াম ইবনে শরীফ চাকরি হারিয়েছেন। ত্ব-হা ও তার তিন সঙ্গী সিয়ামের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার ত্রিমোহনীতে ৮দিন আত্মগোপনে ছিলেন বলে পুলিশ জানায়। এ ঘটনার জেরে সিয়ামকে চাকরিচ্যুত করেছে মোবাইল ফোন কোম্পানি অপো।

 

সিয়াম রংপুরে অপো’র মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগে কর্মরত ছিলেন। রোববার (২০ জুন) দুপুরে মোবাইল ফোন কোম্পানি অপো থেকে নিজের চাকরি হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিয়াম ইবনে শরীফ।

 

তিনি বলেন, ‘আমি অপো কোম্পানির রংপুর মুন্সিপাড়া অফিসে কো-অর্ডিনেটর (এইচআর) পদে চাকরি করতাম। আজ (রোববার) লাঞ্চে যাওয়ার পর কিছু সাংবাদিক আমার অফিসে আসেন। আমার খোঁজ করেন।

 

‘তারা ত্ব-হার নিখোঁজের বিষয়ে আমার সম্পৃক্ততা আছে বলে দাবি করেন। এ কারণে আমার অফিস আমাকে অব্যাহতি দিয়েছে।’

 

তবে এখনও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোনো অব্যাহতিপত্র দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন সিয়াম। তিনি বলেন, ‘‘কোনো অফিশিয়াল কাগজপত্র দেয়া হয়নি। কিন্তু মেসেস দিয়েছে, ‘স্যরি ভাই, উই ক্যান নট কন্টিনিউ উইথ ইউ, বিকজ অফ কোম্পানি ইমেজ’। অফিসের সব গ্রুপ থেকেও আমাকে রিমুভ করা হয়েছে।’’

 

অফিস থেকে সরাসরি কিছু বলা হয়নি জানিয়ে সিয়াম বলেন, ‘আমি তো কোনো অপরাধ করিনি। আমার চাকরি যাবে কেন, তাও বুঝতেছি না।’

 

অপোর এরিয়া ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম সিয়ামকে অব্যাহতি দেয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

১০ জুন থেকে চার সহযোগীসহ নিখোঁজ হন ইসলামি বক্তা ত্ব-হা। কোথা থেকে কীভাবে নিখোঁজ হন, এমন তথ্য দিতে পারছিল না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও।

 

অনেকে অভিযোগ তুলেছিল, সমসাময়িক অন্যান্য ইস্যুতে আন্তরিকতা দেখালেও ত্ব-হার নিখোঁজের বিষয়ে তেমন কোনো তৎপরতা দেখাচ্ছে না সরকার। এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছিল।

 

শুক্রবার বিকেলে ত্ব-হাকে রংপুর মহানগরীর আবহাওয়া অফিস মাস্টারপাড়ার তার প্রথম স্ত্রীর বাসা থেকে বের করে মহানগর পুলিশের ডিবি কার্যালয়ে নেয় পুলিশ।

 

বিকেল ৫টার দিকে প্রেস কনফারেন্স করেন পুলিশের অপরাধ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন। তিনি দাবি করেন, ত্ব-হা ব্যক্তিগত কারণে গাইবান্ধা সদর উপজেলার পশ্চিম পিয়ারাপুর গ্রামে সিয়ামের বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন।

 

সিয়ামের দাবি, কিছুই জানতেন না

ত্ব-হা যে তার বাড়িতে ছিলেন, সে বিষয়ে কিছুই জানতেন বলে দাবি করেছেন সিয়াম। তিনি জানান, বাড়িতে তার বৃদ্ধ মা নিশাত নাহার একাই থাকেন। চাকরির কারণে তিনি থাকেন রংপুরের কামালকাচনা এলাকায়।

 

গত ১০ জুন ত্ব-হার নিখোঁজের খবর প্রকাশের পর তাকে উদ্ধারের দাবিতে রংপুরে যে কয়েকটি মানববন্ধন হয়, তাতে অংশ নেন তিনি। সেখানে বক্তব্যও দেন।

 

এ বিষয়ে সিয়াম বলেন, ‘ত্ব-হা আমার স্কুল-কলেজের ফ্রেন্ড। আমরা রংপুরে একসঙ্গে পড়তাম। সেই থেকে আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক। আমার বাসায় সে অসংখ্যবার গেছে। আমি থাকতেও গেছে, না থাকলেও গেছে।

 

‘এবার সে আমার বাড়িতে গেছে, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানতাম না। যখন সে উদ্ধার হলো, মানে শুক্রবার বিষয়টি জানাজানি হলো, তখন আমি জানি। এরপর আমি মাকে বলি, এত বড় ঘটনা তুমি আমাকে জানালে না কেন? আমি মায়ের সঙ্গে রাগ করি। মা তো আসলে জানত না যে, ত্ব-হা এই কাজ করবে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘ত্ব-হা মাকে বলেছে, আন্টি আমি সমস্যায় পড়েছি, কাউকে কিছু বলিয়েন না। মা সে কারণে হয়তো কাউকে কিছু বলেনি, তিনি বুঝতে পারেননি…। এমনকি আমাকেও বলেনি।’

 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। সবাই আমাকে আমাকে ভুল বুঝছে। অনেক গণমাধ্যমে আমাকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এতে একদিকে আমার ও আমার পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হওয়া প্রয়োজন। আসলে কী ঘটেছে, তা দেশবাসীর কাছে কাছে স্পষ্ট হওয়া দরকার।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *